বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

নেপথ্যে কাঁচামাল সরবরাহ বন্ধ

শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জে ইট ভাটার শ্রমিকদের মানবেতর জীবন যাপন

রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৮:৫৬ পিএম
শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জে ইট ভাটার শ্রমিকদের মানবেতর জীবন যাপন
শাহারাস্তি ও হাজীগঞ্জ উপজেলায় ২৮ টি ইটভাটায় প্রায় ৬ হাজার শ্রমিক মানবতার জীবন যাপন করছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে শ্রমিকরা।
সরকারের হঠাৎ সিদ্ধান্তে ইট তৈরির কাঁচামাল মাটির অভাবে বন্ধের মুখে প্রায় সকল ইটভাটা এবং কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কায় বহু শ্রমিক।
চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি ও হাজিগঞ্জ উপজেলায় সর্বমোট ২৮ টি ইটভাটা রয়েছে। যার মধ্যে শাহরাস্তি উপজেলায় ১৯ টি এবং হাজীগঞ্জে নয়টি ইট ভাটা অবস্থিত।
এই শ্রম নির্ভর ইট ভাটায় প্রায় ছয় হাজারের মতো শ্রমিক মাটিকাটা ও শ্রমিক বহন কাজে নিয়োজিত ট্রাক চালক ও তাদের সহযোগী কর্মরত রয়েছেন।
সূত্রে জানা যায়, এ বছর ইট ভাটায় বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে এমনইতেই লোকসানের মুখে পড়েছে। মালিকগণ ব্যাংক ঋণ করে ব্যবসায় বিনিয়োগ করে এখন সবমিলিয়ে দিশেহারা।
ইট ভাটার মালিকগণ জানান, শ্রমিকরা ইট ভাটার মালিকদের কাছ থেকে আগাম দাদন নিয়ে খরচ করে ফেলেছে, যা মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া তাদের পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব নয়। সরকারের নীতি নির্ধারকদের এমন হীন সিদ্ধান্তহীনতায় মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসেও তারা শ্রম বিক্রি করতে পারেনি। যার ফলে ঋণের দায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে এই শ্রমিকরা।
মালিকপক্ষের মূল চিন্তার কারণ কিভাবে তারা তাদের ব্যাংক ঋণ শোধ করবে। অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাতের ফলে মৌসুমের শুরুতে তারা ইট পোড়াতে পারেনি। আর বর্তমানে ইটভাটা গুলি মাটির অভাবে ভাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম।
সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৫ সালের পর থেকে কোনভাবেই কৃষি জমির মালিকরা টপ সয়েল মাটি কেটে ইট ভাটায় ইট পোড়াতে পারবে না মর্মে নির্দেশ জারি করেছে সরকার। যার ফলে আগামী বছর থেকে এমনিতেই এ সকল ইটভাটা বন্ধ হয়ে যাবে কিন্তু এবার লাইসেন্স নবায়নের পূর্বে কোন ধরনের নির্দেশনা না থাকায় ইট ভাটা শিল্পে শুধু শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জ উপজেলায় বিনিয়োগ করা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার অধিক। সরকারের নীতি নির্ধারকদের সিদ্ধান্তহীনতার ফলে চরম ব্যবসায়িকভাবে লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছে ইট ভাটা মালিকরা।
কর্মহীন হয়ে পড়া এসব শ্রমিকগণ তাদের শ্রেণীর কথা বিবেচনা রেখে সরকারের নীতি নির্ধারকদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যে কোনো ভাবেই হোক এই মৌসুমে তাদের কাজ করার সুযোগ দিলে তারা ঋণের দায়ে জর্জরিত হতে হবে না। পরিবার নিয়ে তাদের পথে বসতে হবে না।
ইটভাটার শ্রমিকরা স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম ও উপজেলা প্রশাসনের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছে, যে কোন ভাবেই হোক তাদের জীবন জীবিকা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এই বছর তাদের কাজের অনুমতি দেয়ার জন্য।
সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সূত্রিতার ফলে বিপাকে পড়েছে শ্রমিক মালিক ও ইট ব্যবহারকারী সকলেই। বহুবার ইটভাটা মালিক সংগঠন থেকে বিভিন্ন প্রশাসনের দপ্তরে মাটি তোলার আবেদন জানালেও কোন সুরাহা মেলেনি। তার জেরে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন ভাটা মালিক ও শ্রমিকরা।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital