বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ওবায়দুল কাদের গ্রেপ্তার

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৪, ১২:২৫ এম
ওবায়দুল কাদের গ্রেপ্তার

সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যশোর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ঢাকা টাইমসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রবল গণআন্দোলনের মধ্যে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মন্ত্রিপরিষদের সদস্য থেকে শুরু করে বেশিরভাগ আওয়ামী লীগ নেতা আত্মগোপনে চলে যান। আত্মগোপনে ছিলেন ওবায়দুল কাদেরও। এরই মধ্যে তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানাল পুলিশ।

একই দিন সন্ধ্যায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পুলিশ।

আওয়ামী লীগের টানা তিনবারে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ‘খেলা হবে’, ‘অন্তরে জ্বালা’ এমন নানান রাজনৈতিক বক্তব্যে আলোচনায়-সমালোচনায় থাকতেন সবসময়।

Model Hospital

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকে মোকাবিলায় বাংলাদেশ ‘ছাত্রলীগই যথেষ্ট’ বলে গত ১৫ জুলাই এক মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তার এমন বক্তব্যের পর সেদিন বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। হামলা থেকে রক্ষা পায়নি নারী শিক্ষার্থীরাও। তাদের রক্তাক্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় বয়। ছাত্রলীগের পাশাপাশি সমালোচনায় বিদ্ধ হন ওবায়দুল কাদেরও। অন্যদিকে গতি পায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন।

তবে আন্দোলন দমাতে বিগত সরকারের ‘ওপর মহলের নির্দেশে’ নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। সরকারি হিসেবে ১৬, ১৭ ও ১৮ জুলাই তিন দিনে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান অন্তত দেড় শ ছাত্র-জনতা। গণমাধ্যমের হিসেবে এ সংখ্যা দুই শতাধিক।

এরপর কারফিউ জারির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করে সরকার। এরই মাঝে ২ আগস্ট আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কোনো আন্দোলনকারীর ওপর গুলি চালানোর নির্দেশনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কখনো দেওয়া হয়নি। এর আগে কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়, ‘দেখামাত্র গুলি চালানোর নির্দেশ’ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে ২০১৬-২০১৯ মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। এরপর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ২১তম সম্মেলন ও ২০২২ সালে ২২তম সম্মেলনে টানা তৃতীয়বারের মতো দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন, যা আওয়ামী লীগের ইতিহাসে প্রথম।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। নোয়াখালী-৫ আসন থেকে সেবার নির্বাচিত হয়ে নবম সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। এরপর একই আসন থেকে আরও তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এর আগে ১৯৯৬ সালের জুনে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

ওবায়দুল কাদের ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলন ও ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) কোম্পানীগঞ্জ থানা শাখার অধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ৫ বছর কারাবন্দী ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি (১৯৭৭-৮১) নির্বাচিত হন এবং দুই মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ পিএম
চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

চাঁদপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ও জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা। বন্দিদের ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মাদক ও অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলা কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ৪৭৫ জন। তবে সেখানে বর্তমান বন্দির সংখ্যা ১২০৬ জন।

ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকলেও তাদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের ২৫ মে জেল সুপার হিসেবে মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা দায়িত্ব নেওয়ার পর কারা অধিদপ্তরের বিধি-বিধান অনুসরণ করে কারাগারের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

Model Hospital

কারাগার ঘুরে দেখা গেছে, অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানে শাকসবজি ও ফলমূলের চাষ করা হয়েছে। কারা বাগানে উৎপাদিত মৌসুমি শাকসবজি কারারক্ষী ও বন্দিদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সবুজায়ন হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দিদের জন্য কর্মমুখী পরিবেশও তৈরি হচ্ছে।

কারাগারে চিকিৎসাসেবার জন্য একজন চিকিৎসক ও একজন ফার্মাসিস্ট দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেও পাঠানো হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার পাশাপাশি খাবারে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারা ক্যান্টিনে নির্ধারিত ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সুযোগ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশন এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কারামুক্ত কয়েকজন বন্দি জানান, কারাগারের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো। তাদের দাবি, বন্দিদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা সমভাবে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বন্দি বা গোষ্ঠী যাতে প্রভাব বিস্তার করে অন্যদের সুযোগ-সুবিধা ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়েও কারা কর্তৃপক্ষ নজর রাখছে।

কারাগারে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত তিন মাসে মাদক সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন জেল সুপার।

চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা বলেন, কারাগার একটি স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। কারাগারের সেবার মান বাড়াতে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, ‘মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে আমরা সতর্ক রয়েছি। চাঁদপুর জেলা কারাগার মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেল সুপার আরও বলেন, বন্দিগন যাতে কারাগার হতে মুক্তি গিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না হয় সেজন্য তাদের আত্মকর্মসংস্থান মূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

কারাবন্দিদের সমাজের বোঝা হিসেবে না দেখে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারাগারে বন্দিদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বিনোদন ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে কারামুক্তির পর তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবার ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বন্দিদের মানবিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।