মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সর্বপ্রথম ফরিদগঞ্জে মাদক প্রবেশের মূল পথ পুরোপুরি ব্লক করবো : নবাগত ইউএনও মানিক

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৭ পিএম
সর্বপ্রথম ফরিদগঞ্জে মাদক প্রবেশের মূল পথ পুরোপুরি ব্লক করবো : নবাগত ইউএনও মানিক

ফরিদগঞ্জে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে নবাগত ইউএনও মো. মেহেদী হাসান মানিকের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন অতিথি ও সুধীজন।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিকের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের পরিচিতি ও সুধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে নবাগত ইউএনওর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা মাধ্যমিক অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার আবদুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার, পৌরসভার সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন পাটওয়ারী, গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটওয়ারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফরিদগঞ্জ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন সাবু পাটওয়ারী, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন পাটওয়ারী, গৃদকালিন্দিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মফিজুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভায় বক্তারা এলাকার সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দূরবস্থা দূরীকরণ, মাদকের বিস্তার রোধ, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য থামানো, চুরি ডাকাতি প্রতিরোধ এবং সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে নবাগত প্রশাসনিক প্রধানের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ দাবি করেন।
উপস্থিত সকলের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে নবাগত ইউএনও মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ফরিদগঞ্জের ঐতিহ্য, সামাজিক সচেতনতা এবং শিক্ষার হার সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রশাসন থেকে শুরু করে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে এই অঞ্চলের সন্তানরা সুনামের সঙ্গে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। এ এলাকার মানুষের বক্তব্য ও উপস্থাপনা অত্যন্ত অর্থবহ ও যুক্তিপূর্ণ।
এলাকার অন্যতম প্রধান সামাজিক ব্যাধি মাদকের বিষয়ে তিনি দৃঢ় বার্তা দিয়ে বলেন, মাদকের বিস্তার রোধ করা কেবল ফরিদগঞ্জের নয়, বরং এটি একটি জাতীয় চ্যালেঞ্জ। ফরিদগঞ্জে যেহেতু মাদকের কোনো উৎপাদন কেন্দ্র নেই, তাই বাইরে থেকে বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে এখানে মাদক প্রবেশ করে। শুধু সেবনকারী বা খুচরা বিক্রেতা ধরে এটি বন্ধ করা সম্ভব নয়। থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সর্বপ্রথমে ফরিদগঞ্জে মাদক প্রবেশের মূল পথ বা রুটগুলোকে চিহ্নিত করে তা পুরোপুরি ব্লক করতে কঠোর অবস্থান নেব।
কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সের তরুণদের অপরাধপ্রবণতা নিয়ে ইউএনও অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আমাদেরই পরিবারের কারো না কারো সন্তান বা ছোট ভাই। পরিবার থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ ও সচেতন করা না গেলে কেবল আইনি পদক্ষেপে শতভাগ ফল আসবে না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নিজের সন্তান বা ভাই কার সঙ্গে সঙ্গ দিচ্ছে, কোথায় সময় কাটাচ্ছে-সে বিষয়ে অভিভাবকদের কড়া নজর রাখতে হবে। সমাজকে সুন্দর রাখতে পরিবারকেই প্রথম ঢাল হিসেবে দাঁড়াতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে স্মার্টফোন ও অপ্রয়োজনীয় ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার বন্ধে তিনি কঠোর নির্দেশনার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগে ব্যঘাত ঘটছে। প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা পর্ষদকে অভিভাবক সমাবেশ ডেকে সুস্পষ্ট নোটিশ জারি করতে হবে। নির্দিষ্ট মেয়াদের পর কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে মোবাইল নিয়ে এলে তা সরাসরি বাজেয়াপ্ত করতে হবে এবং অভিভাবককে তলব করে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এছাড়া চাঁদপুরের মহাসড়কের বাঁকগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ ও গতিসীমার সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, যত্রতত্র ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশার শৃঙ্খলা আনয়ন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং সপ্তাহের প্রতি শনিবার স্ব-স্ব আঙিনা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার জন্য সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন নবাগত এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা।
সভায় ফরিদগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সঠিক সময়ে হাসপাতালে নেয়ায় বাঁচল সাপে-কাটা শিশু ইসরাত

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৩ পিএম
সঠিক সময়ে হাসপাতালে নেয়ায় বাঁচল সাপে-কাটা শিশু ইসরাত

জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা শিশুকে অ্যান্টিভেনম

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা এক শিশুকে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটির চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সময়োপযোগী ব্যবস্থাপনায় শিশুটির প্রাণ রক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে ইসরাত (৮) নামের এক শিশু। সে উপজেলার তারাপাল্লা গ্রামের ইকবাল হোসেনের মেয়ে।

হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে নিজ বাড়ির রান্নাঘরে যাওয়ার পর সাপের কামড়ের শিকার হয় শিশু ইসরাত। পরিবারের লোকজন কোনো সময় নষ্ট না করে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোয়াইব হোসেন শিশুটিকে পরীক্ষা করেন।

Model Hospital

এসময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তার শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়। বিশেষ করে তার চোখের পাতা ঝুলে পড়া ও খিচুনির  মতো উপসর্গ প্রকাশ পায়।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা চলাকালে শিশুটিকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। চিকিৎসক, নার্স ও উপ-সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তাদের সমন্বিত দল অত্যন্ত নিবিড়ভাবে রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুটির অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে, পরবর্তী ঝুঁকি এড়াতে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫০ শয্যার কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন নিয়মিতভাবেই সাপে-কাটা রোগীদের জরুরি বিভাগে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হচ্ছে। সঠিক সময়ে হাসপাতালে আনায় এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করতে পারায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

এবিষয়ে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সোহেল রানা বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাপে কাটার পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে আনা উচিত। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো কুসংস্কারে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়ার পাশাপাশি জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় একটি বড় অগ্রগতি ও ইতিবাচক বার্তা।