বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

পুলিশের কর্মবিরতি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা

জামায়াত নেতাদের ধন্যবাদ জানালেন চাঁদপুরের এসপি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৪, ৭:১৮ পিএম
জামায়াত নেতাদের ধন্যবাদ জানালেন চাঁদপুরের এসপি

পুলিশের কর্মবিরতি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সংখ্যালঘুদের স্থাপনা পাহারা দেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন চাঁদপুর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিপিএম পিপিএম বার।

দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে জেলা ও শহর জামায়াত শাখার নেতারা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, পুলিশের কর্মবিরতির সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে চরম অবনতি না হয়, আপনারা রাস্তায় থেকে এবং এলাকায় এলাকায় পাহারা দিয়ে পুলিশের কাজটি করে দিয়েছেন। সেজন্য জেলা পুলিশের প্রত্যেক সদস্যের পক্ষ থেকে আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। একইসঙ্গে আপনারা সংখ্যালঘুদের স্থাপনা ও বাড়িঘর পাহারা দিয়েছেন। এগুলো আমাদেরই কাজ ছিল, কিন্তু সেকাজগুলো আপনারা করেছেন।

পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘পুলিশ নির্বাহী আদেশের অংশ। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সে সরকারের নির্দেশে পুলিশ দায়িত্ব পালন করে। বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখবেন, যখন যে সরকার ক্ষমতায় ছিল তাদের নির্দেশে পুলিশ সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছে।’

Model Hospital
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিপিএম পিপিএম (বার) এর সাথে জেলা জামায়াত নেতৃবৃন্দু মতবিনিময় ও ফুলেল শুভেচছা বিনিময় করেন।

সভায় জামায়াতে ইসলামীর নেতারা চাঁদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখার জন্য দলের পক্ষ থেকে পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দেন।

চাঁদপুর জেলা জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির আবদুর রহিম, নায়েবে আমির বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, সেক্রেটারি অ্যাভোকেট মাসুদুল ইসলাম বুলবুল, জয়েন্ট সেক্রেটারি শাহজাহান মিয়া, শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান, সেক্রেটারি বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।

পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সুদীপ্ত রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) রাশেদুল হক চৌধুরী, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক (ডিআইও-১) মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।

সভার শুরুতে পুলিশ সুপারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং জামায়াত নেতাদের সঙ্গে পরিচিতি হন এসপিসহ পুলিশ কর্মকর্তারা।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ পিএম
চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

চাঁদপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ও জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা। বন্দিদের ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মাদক ও অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলা কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ৪৭৫ জন। তবে সেখানে বর্তমান বন্দির সংখ্যা ১২০৬ জন।

ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকলেও তাদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের ২৫ মে জেল সুপার হিসেবে মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা দায়িত্ব নেওয়ার পর কারা অধিদপ্তরের বিধি-বিধান অনুসরণ করে কারাগারের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

Model Hospital

কারাগার ঘুরে দেখা গেছে, অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানে শাকসবজি ও ফলমূলের চাষ করা হয়েছে। কারা বাগানে উৎপাদিত মৌসুমি শাকসবজি কারারক্ষী ও বন্দিদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সবুজায়ন হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দিদের জন্য কর্মমুখী পরিবেশও তৈরি হচ্ছে।

কারাগারে চিকিৎসাসেবার জন্য একজন চিকিৎসক ও একজন ফার্মাসিস্ট দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেও পাঠানো হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার পাশাপাশি খাবারে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারা ক্যান্টিনে নির্ধারিত ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সুযোগ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশন এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কারামুক্ত কয়েকজন বন্দি জানান, কারাগারের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো। তাদের দাবি, বন্দিদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা সমভাবে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বন্দি বা গোষ্ঠী যাতে প্রভাব বিস্তার করে অন্যদের সুযোগ-সুবিধা ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়েও কারা কর্তৃপক্ষ নজর রাখছে।

কারাগারে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত তিন মাসে মাদক সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন জেল সুপার।

চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা বলেন, কারাগার একটি স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। কারাগারের সেবার মান বাড়াতে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, ‘মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে আমরা সতর্ক রয়েছি। চাঁদপুর জেলা কারাগার মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেল সুপার আরও বলেন, বন্দিগন যাতে কারাগার হতে মুক্তি গিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না হয় সেজন্য তাদের আত্মকর্মসংস্থান মূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

কারাবন্দিদের সমাজের বোঝা হিসেবে না দেখে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারাগারে বন্দিদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বিনোদন ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে কারামুক্তির পর তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবার ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বন্দিদের মানবিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।