শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকিীতে

ফরিদগঞ্জে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এম এ হান্নানের

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৮:৩৫ পিএম
ফরিদগঞ্জে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এম এ হান্নানের

ফরিদগঞ্জে বিএনপি’র ৪৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকিীতে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা-হয়রানিমূলক মামলা প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ¦ এম.এ হান্নান।

কয়েক জন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবন্থা গ্রহণের ঘোষণাও দেন তিনি।

রোববার (১ সেপ্টম্বার) দুপুরে উপেজলা কমিটি আয়োজিত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে। অন্ষ্ঠুানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাবেক নেতা ব্যবসায়ী এম.এ. হান্নান।

বিএনপি, ফরিদগঞ্জ উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ মো. ইউনুছ এর সভাপতিত্বে সমাবেশে দলের বিভিন্না স্তরের নেতাকর্মীগণ বক্তব্য রাখেন। প্রায় শস্রাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক সমাবেশে উপস্থিত হন। প্রধান অতিথি এম. এ. হান্নান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে কেউ মুছে ফেলতে পারবে না।

Model Hospital

তিনি, এক ক্রান্তিলগ্নে এ দেশের নেতৃত্বের হাল ধরেছেন। তার সময়কালে দেশের প্রভূত উন্নয়নের সূচনা হয়েছে। যার সুফল আমরা আজও পাচ্ছি। তিনি বলেন, বিদেশে শ্রমিকের কর্ম সংস্থানের রপ্তানীর সশুভ সূচনা তার হাত ধরেই হয়েছে। যার নুফল আজ বাংলাদেশের মানুষ পাচ্ছে। তিনি জিয়াউর রহমানের রূহের মাগফিরাত, দলের চেয়ারম্যান বেগম খালোদ জিয়ার সুস্থ্যতা কামনা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

সমাবেশ শেষে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে তিনি বলেন, ফরিদগঞ্জে ৫ই আগস্ট থানা আক্রমনের সময় শাহাদাৎ নামের যুবকের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। ওই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের কেউ কেউ মামলা বাণিজ্যে নেমেছে। তারা ঢালাওভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে মামলা নিয়ে ঘুরছে।

তিনি বলেন, ঘটনার সময় ও তার আগে পরে আওয়ামী লীগের কোনো লোক অত্র এলাকায় ছিলো না। আমরা শহীদ জিয়ার সৈনিক হয়ে কারও নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও বাণিজ্য বরদাস্ত করবো না। আমি ছাই বিএনপির লোকজন যেন আওয়ামী লীগের মতো মিথ্যা মামলা না দেয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বার বারে বলেছেন তারেক রহমান। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট খবর রয়েছে আমাদের কয়েকজন নেতা চাঁদাবাজিতে নেমেছেন।

তিনি কয়েক জনের নাম উল্লেখ করে বলেন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে তিন জনের নাম উল্লেখ করার পর বিএনপি’র কয়েকজন চিৎকার করে বলেন, ভাংচুর ও চাঁদাবাজিতে আরও কয়েকজন আছে। তাদের নামও বলতে হবে। ওই সময় প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদসহ অন্ত ২০ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান দুলাল ও পৌর বিএনপি’র সভাপতি আমানত গাজীর উপস্থাপনায় অন্যঅন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্মআহ্বায়ক মো. মঞ্জিল হোসেন, ডা. আবুল কালাম আজাদ, আবু জাফর খসরু মোল্লা, আ: খালেক পাটওয়ারী, আব্দুর রহমান, মাসুদ হোসেন, মহসীন মোল্লা, আবুল হাসনাত, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আমজাদ হোসেন শিপন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্টু, পৌর যুবদলের সভাপতি ইমাম হোসেন পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক আমিন মিজি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্মআহ্বায়ক ফারুক হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফ পাটওয়ারী, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক আবু ইউছুপ চৌধুরী শাওন, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি আল আমিন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন শিবলু প্রমুখ। এছাড়া, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’