শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তির চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নে বিএনপির অফিস উদ্বোধন

মোঃ রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৪, ৭:১৭ পিএম
শাহরাস্তির চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নে বিএনপির অফিস উদ্বোধন

চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের কাদরায় বিএনপির নতুন অফিসের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহাম্মেদ পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় ও আবু ইউসুফ মজুমদারের সভাপতিত্বে উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট  ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার।

এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লোকমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবদীন মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদ আলম মিয়াজি,৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ দ্বিন ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আলী হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাদের সজীব, ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহির, ৯ নং ওয়ার্ড  বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান মোল্লা, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মতিন মোল্লা সহ স্থানীয় নেতা-কর্মীবৃন্দ।

প্রত্যান্ত অঞ্চলের দীর্ঘ ১৬ বছরের নির্যাতিত নেতা কর্মীদের মেলবন্ধনের লক্ষ্যে এবং দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের আগ্রহে এই (ক্লাব) অফিস করা হয়েছে বলে জানান ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহাম্মেদ পাটোয়ারী।

Model Hospital

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার বলেন, ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে এ ফ্যসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে আমরা জুলুম, অত্যাচার, মামলা হামলা ও নির্যাতনের স্টিমরোলার থেকে মুক্তি পেয়েছি। এ আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয় এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের সুস্থতা ও নেক হায়াত কামনা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা শাহরাস্তি-হাজিগঞ্জ বিএনপির সাংগঠনিক অভিবাবক ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের কর্মী। বিগত দিনের মত তার হাতকে শক্তিশালী করে আমরা তাকে চাঁদপুর-৫ আসনের এমপি হিসেবে দেখতে পাব, ইনশাআল্লাহ। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, সকল দ্বিধা দ্বন্দ্ব ভূলে চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের সবাই একসাথে কাজ করার আহবান করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’