শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে স্কুলের বেতনের চাপে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুলের আ’ত্ম’হ’ন’ন

মেহেদি হাসান রিমেল প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪, ৮:৩০ পিএম
হাজীগঞ্জে স্কুলের বেতনের চাপে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুলের আ’ত্ম’হ’ন’ন

হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কূল ইউনিয়নের কোন্দরা গ্রামে স্কুলের বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহনন করা জান্নাতুল মাওয়ার মরদেহ। পাশে স্বজনদের আহাজারি।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কূল ইউনিয়নের কোন্দরা গ্রামে স্কুলের বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে না পেরে জান্নাতুল মাওয়া (১৪) নামে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে জান্নাতুল কীটনাশক পান করে। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। চাঁদপুর যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

জান্নাতুল স্থানীয় বেলচোঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার পরিবার জানিয়েছে, স্কুলের পরীক্ষার বকেয়া ফি পরিশোধ না হওয়ায় সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জান্নাতুলের বাবা মনির হোসেন পরীক্ষার ফি পরিশোধের জন্য টাকা সংগ্রহ করেছিলেন এবং এদিনই স্কুলে জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাবার কাছ থেকে টাকা পাওয়ার আগেই জান্নাতুল কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করে।

Model Hospital

জান্নাতুলের বাবা মনির হোসেন জানান, “আমার মেয়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিল এবং পড়াশোনায় একটু পিছিয়ে। আমি তাকে বলেছিলাম, আরও এক বছর এই ক্লাসে থাকতে হবে। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারনে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষার ফি জমা দেওয়া হয়নি, তাই আগামীকাল তার পরীক্ষা অনিশ্চিত ছিল। আজ সকালে (বুধবার) টাকা নিয়ে তাকে দেওয়ার আগেই সে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।”

এবিষয়ে বেলচোঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এএইচ এম খোরশেদ আলম মুঠোফোনে জানান, এমন অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তবে কিছু শ্রেণী শিক্ষক বকেয়া বেতন ও পরীক্ষার ফি’ তাদের কাছে চেয়ে থাকে। কাউকে বের করে দেয়া বা দাঁড় করিয়ে রাখার তথ্য আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মিন্টু দত্ত বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেছি। বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। পরিবারের অভিযোগ ও ঘটনার কারণ সম্পর্কে তদন্ত চলছে।”

উল্লেখ্য যে, মৃত জান্নাতুল মাওয়ার সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন এসআই রফিকুল ইসলাম। পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের নিকট ময়নাতদন্ত না করার আবেদন প্রেরণ করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’