শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি টামটা উত্তর ইউপি বিএনপি'র আয়োজিত কর্মী সভা

ধৈর্য ধরুন আমরা একটি সুন্দর সমৃদ্ধশালী দেশ উপহার দিব : ইঞ্জিঃ মমিনুল হক

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪, ১১:২৫ পিএম
ধৈর্য ধরুন আমরা একটি সুন্দর সমৃদ্ধশালী দেশ উপহার দিব : ইঞ্জিঃ মমিনুল হক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির  উদ্যোগে এক কর্মী সমাবেশ- ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার দিনব্যাপী শাহরাস্তি উপজেলার  টামটা উত্তর ইউপি বিএনপির আয়োজনে এটি অনুষ্ঠিত হয়। ইউপি বিএনপি সভাপতি শহিদ উল্লাহ মিয়াজীর   সভাপতিত্বে  এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সফল সভাপতি, হাজীগঞ্জ শাহরাস্তি বিএনপির প্রধান  সমন্বয়ক  লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হক।তিনি বক্তব্য বলেন,বিগত সরকারের রাজনৈতিক কব্জায় পড়ে বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় সাজা ভোগ করেছিলেন।
যেটি আজ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। দেশে আজ অর্থনৈতিকভাবে মন্দা অবস্থা বিরাজ করছে। এর মূলেই ছিল লুটপাট। বর্তমানে পূর্বের অবস্থা থেকে রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে। গণতন্ত্র বিনির্মাণে ও দেশকে রক্ষার্থে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন দেওয়া আমাদের কর্তব্য। আপনারা ধৈর্য ধরুন আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দিব।
কিন্তু এরেই মধ্যে বিগত সরকারের দোসররা গ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকাতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ইস্যু সাজিয়ে প্রতিনিয়ত দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি করছে। এসবের বিহিত হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, আমরা এ পর্যন্ত শাহরাস্তি হাজীগঞ্জে বিগত সরকারের নেতাকর্মীদের নামে কোন মামলা দায়ের করিনি। অথচ তারা বিগত দিনে হাজার হাজার আমাদের নেতাকর্মীর নামে  মামলা দেওয়ায় তারা  বাড়িতে ঘুমাতে  পারেনি।
আমাদের কিছু লোক অতিতেও তাদের সঙ্গে ছিল,এখন আবার ভিন্ন প্লাটফর্ম তৈরি করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পাঁয়তারা  করছে। আপনারা এ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।  তিনি বলেন, দল যদি আমাকে মূল্যায়ন করে তাহলে আমি আপনাদের সেবা করতে চাই। আমার বড়লোক হওয়ার তেমন কোনো অভিলাশ নেই। কারণ আমি পূর্ব থেকে   ব্যবসা-বাণিজ্য করে বাড়ি গাড়ির সমৃদ্ধ মালিক হয়েছি।
এখন আমার অর্থ বৃত্তের প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে আমার ইচ্ছে আপনাদের সেবা করা। পরিশেষে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
এছাড়া ওইদিন  উপজেলা বিএনপির নেতা মমতাজ উদ্দিনের সঞ্চালনায় এবং প্রধান বক্তা আবু ইউসুফ রুপন পাটোয়ারী  সহ-সভাপতি  উপজেলা বিএনপির সার্বিক সহযোগিতায় এবং স্বাগত বক্তব্য শেষে  এতে অতিথি হিসেবে আরো  উপস্থিত ছিলেন, আলহাজ্ব আয়াত আলী ভূঁইয়া সভাপতি উপজেলা বিএনপি, মো: আক্তার হোসেন পাটোয়ারী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সহ-সভাপতি উপজেলা বিএনপি ,মো:জহিরুল ইসলাম,সফিউল্লাহ বাচ্চু, আনোয়ার হোসেন আখন্দ সহ-সভাপতি উপজেলা বিএনপি, সেলিম পাটোয়ারী লিটন
উপজেলা সাধারণ সম্পাদক বিএনপি , মোঃ ইকবাল হোসেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক,শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম  সাবেক আহ্বায়ক পৌর বিএনপি,মো: আবুল কালাম সিনিয়র সহ সভাপতি পৌর বিএনপি, যুবদলের আহবায়ক আলী আজগর মিয়াজী, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো: আ: রহিম, সাধারণ সম্পাদক মো: জসিম উদ্দিন এমএসি, জাকির হোসেন ভিপি মেহের ডিগ্রি কলেজ , পৌর বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক গাজী ফিরোজ,উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এ্যাড. শাহেদুল হক মজুমদার সোহেল, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এহতেশামুল হক গণি, জাকির হোসেন নয়ন পৌর  যুবদলের আহ্বায়ক, উপজেলা স্বেচ্ছা সেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ মাসুদ আলম , সদস্য সচিব মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন শিপন, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ইঞ্জি: এবি এম  পলাশ, সদস্য সচিব আজগর হোসেন মিয়াজী, উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মোঃ হেলাল উদ্দিন, মো:মনিরুজ্জামান সভাপতি কৃষকদল,এড. সালাউদ্দিন, রুহুলামিন ঢাকা যুবদলের নেতা, কিরন হোসেন মুন্সীসাধারণ সম্পাদক টামটা উত্তর  ইউপি বিএনপি , উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি’র বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যম কর্মী, এলাকার গণ্যমান্য বিশিষ্ট জন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দিনভর অনুষ্ঠানমালায় প্রথম সেশনে  আলোচনা সভা শেষে  দুপুরে উপস্থিত সকল মেহমানদেরকে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’