শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জ পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির জনসমাবেশ

দলীয় নির্দেশনা অমান্য করলে বহিষ্কার করা হবে : এম এ হান্নান

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৮:৫৭ পিএম
দলীয় নির্দেশনা অমান্য করলে বহিষ্কার করা হবে : এম এ হান্নান

ফরিদগঞ্জে বিএনপির জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ হান্নান।

ফরিদগঞ্জের পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে জনসভায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ হান্নান বলেছেন, দলীয় নির্দেশের বাহিরে কেউ যাবেন না। আমি বিগত সময় থেকে আপনাদেরকে অনুরোধ করে আসছি, আপনারা যদি কেউ দলীয় নির্দেশ অমান্য করেন, দল আপনদেরকে বহিস্কার করবে। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দেশের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল। এদল অন্য দলের মত না।
শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকালে পাইকপাড়া ইউজি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারম্যান আবু তাহের আবু পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আপনারা যদি মনে করেন, বিএনপির কোন প্রতিদ্বন্ধী নেই, তাহলে ভুলের জগতে রয়েছেন। মাঠে আমাদের প্রতিদ্বন্ধী রয়েছে। আমাদের ঘরে বসে থাকলে হবে না। ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে হবে। তাই তারেক রহমানের নিদের্শনা একটাই। ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণকে বোঝাতে হবে কেন তারা বিএনপিকে ভোট দিবেন। বিএনপির ৩১দফার কথা প্রচার করুণ। অতীতে যারা ভোট ডাকাতি করেছে, তারা পালিয়ে গেলেও তাদের দোসররা এখনো ঘাপটি মেরে বসে আছে। বিপরীতে বিএনপির লোকজন ভদ্র ও মানুষের প্রকৃত ভোট পেতে চায়। ভোট কেন্দ্রে এসে ভোটাররা যাতে তাদের পছন্দের লোককে ভোট দিতে পারে, সে ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহিন মোল্লার সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক শরীফ মোহাম্মদ ইউনুছ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম কাঞ্চন, সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মঞ্জিল হোসেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল খালেক পাটওয়ারী, নজরুল ইসলাম নজু, মহসীন মোল্লা, মাসুদ আলম, আব্দুর রহমান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আমজাদ হোসেন শিপন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্টু, সহ-কোষাধক্ষ রাশেদ বাবু, বাংলা কলেজ ছাত্রদল নেতা আবুল কাশেম রিয়াদ, ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান আপু ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ পাটওয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অহিদুর রহমান পাটওয়ারী, ছাত্রদলে সভাপতি জাহিদুল ইসলাম পাখি, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলামসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলাল, কৃষক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’