শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির জনসভায় 

আগামী নির্বাচন অনেক কঠিন হবে : এম এ হান্নান

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৯:৩০ পিএম
আগামী নির্বাচন অনেক কঠিন হবে : এম এ হান্নান

ফরিদগঞ্জের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ হান্নান।

“আগামী নির্বাচন অনেক কঠিন হবে। অতীতের সমস্ত নির্বাচন থেকে এই নির্বাচন অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। তাই ঘরে ঘরে তারেক রহমানের সালাম পৌঁছে দিন এবং ৩১ দফার কথা জানান। তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফায় জনগণের আশা আকাঙ্খার কথা ব্যক্ত হয়েছে।
ফরিদগঞ্জের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির জনসভায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ হান্নান এসকল কথা বলেছেন।
গত ১৭ বছর মানুষ কথা বলতে পারেনি, রাজনীতি করতে পারেনি। নিজের মতপ্রকাশ এবং ভোট দিয়ে প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে নি। ফলে এখন তারা মুখিয়ে রয়েছে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে জাতীয় সংসদে পাঠাবে। তবে এই উপচে পড়া ভিড় এবং পতিত আওয়ামী লীগ না থাকায় নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই। আমাদের নেতা তারেক রহমান ইতিমধ্যেই বলেছেন, আগামী নির্বাচন কঠিনতর নির্বাচন হবে।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকালে ফরিদগঞ্জের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত রূপসা আহম্মদিয়া উচ্চ বিদ্যাল মাঠের জনসভায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক শরীফ মোহাম্মদ ইউনুছ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য এ্যাডভোকেট নাহিদুল ইসলাম নাহিদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুর রহমান দুলাল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী মোজাম্মেল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবু জাফর খসরু মোল্লা, সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন, আব্দুল খালেক পাটওয়ারী, নজরুল ইসলাম নজু পাটওয়ারী, মহসীন মোল্লা, পৌর বিএনপির আহবায়ক আমানত গাজী, যুগ্ম আহবায়ক জামাল হোসেন, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আমজাদ হোসেন শিপন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্টু, উপজেলা মহিলা দলের আহবায়ক রেবেকা সুলতানা,  উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান মঞ্জু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক বাছির আহমেদ, সদস্য আমির হোসেন নফর আলি মুন্সী, হুমায়ূন কবির টিপু, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ ফারুক হোসেন খান, যুগ্ম সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আরিফ পাটওয়ারী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আক্তার হোসেন, সদস্য সচিব ফারুক হোসেন, উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর, ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মশিউর রহমান মনা, আব্দুর রহমান, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আল-আমিন মোল্লা, সদস্য সচিব আমজাদ হোসেন শিবলু, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য মনির হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাজু আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক রিফন হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত হাজার হাজার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিল।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’