শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায়

গভীর রাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পাশে কম্বল নিয়ে ইউএনও হেলাল চৌধুরী

মো. রাছেল, নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৫, ৫:৪০ পিএম
গভীর রাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পাশে কম্বল নিয়ে ইউএনও হেলাল চৌধুরী

শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করছেন ইউএনও হেলাল চৌধুরী।

গভীর রাতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাশে কম্বল নিয়ে ছুটে গেলেন কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল চৌধুরী।

শনিবার উপজেলার পিপলকরা আলহাজ্ব আলী আকবর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে মধ্য রাতে কম্বল বিতরণ করতে দেখা যায় ইউএনও হেলাল চৌধুরীকে।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. মতিউর রহমান জানান, ইউএনও স্যার শনিবার মধ্যরাতে মাদ্রাসার সামনে এসে আমাকে ফোন করে ঘুম থেকে জেগে তোলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কম্বল দিয়ে জড়িয়ে ধরেন। তখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য ফুটে উঠে।

ইউএনও নিজ সন্তানদের মতো শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে ধরেন। পরে সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি করে কম্বল বিতরণ করেন।

Model Hospital

ইউএনও মোহাম্মদ হেলাল চৌধুরী বলেন, সমাজের অসহায় শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। সমাজের বিত্তবানরা যদি শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায় তাহলে শীতার্তদের কষ্ট লাঘবে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। সকলের সহযোগিতায় অসহায় শীতার্তদের জীবন এনে দিতে পারে সুখ শান্তি।

শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করছেন ইউএনও হেলাল চৌধুরী।

কম্বল বিতরণ কালে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম, মাওলানা মো. আব্দুস সালাম, ইউপি সদস্য আবু সাঈদ (রাশেদ), সমাজসেবক নুরুজ্জামান, হাফিজুর রহমান, বদিউল আলম, রাশেদ পাটোয়ারী, মজিবুর রহমান, গ্রাম পুলিশ সৈয়দ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, পটপরিবর্তনের পর যোগদানকৃত নতুন ইউএনও হেলাল চৌধুরী রাতের আধারে পিআইও রাকিবুল ইসলামকে সাথে নিয়ে অসহায় শীতার্তদের পাশে কম্বল নিয়ে ছুটে চলছেন। প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে শীতার্র্ত অসহায় মানুষ গুলোর গায়ে নিজ হাতে জড়িয়ে দেন কম্বল। কম্বল পেয়ে মহাখুশি লক্ষ্য করা যায় শীতার্ত মানুষগুলোর মাঝে। তার এই মহৎ উদ্যোগের জন্য নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও হেলাল চৌধুরী।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’