শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

অপর ছিনতাইকারী গ্রেফতার 

ফরিদগঞ্জে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ছিনতাইকারী আহত

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৫, ৮:০৪ পিএম
ফরিদগঞ্জে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ছিনতাইকারী আহত
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সায় যাত্রী সেজে ছিনতাই করার সময় অটোরিক্সা চালককে চুরিকাঘাত করতে গিয়ে সহযোগির পেটে আঘাত লাগে গুরুতর আহত। অপর ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার চতুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অহত ছিনতাইকারী সোহান (১৮)কে অটোরিক্সা চালকসহ স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তার অবস্থা গুরুতর দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এরপর থানা পুলিশ ছিনতাইয়ের সংবাদ শুনে ঘটনাস্থল ও বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে অপর ছিনতাইকারী জাহিদ হাসান(২২)কে গ্রেফতার করে এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ছুরি জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন একই উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাঁও বৈশেরদিঘির পাড় এলাকার জাহিদ হোসেন (২২) ও আহত ব্যক্তি হলেন ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য পশ্চিম বড়ালী এলাকার হাসানের ছেলে সোহান (১৮)।
ছিনতায়ের ঘটনার শিকার অটোরিকশা চালক একই উপজেলার উত্তর হাঁসা গ্রামের আব্দুল হান্নান গাজীর ছেলে আমির হোসেন।
অটোরিক্সা চালক আমির জানান, রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে তারা দুইজন আমার অটোরিকশাতে উঠে কালির বাজার যায়, সেখানে তাদের কাছ থেকে আমি ভাড়ার টাকা চাইলে বলেন, ভাড়ার টাকা বাড়িয়ে দিব, এই বলে আমাকে তারা রেখে দেয়। পরবর্তিতে রাতেই তারা আমাকে গাব্দেরগাঁও এলাকায় নিয়ে গলায় অস্ত্র ধরে আমার মোবাইল, মানিব্যাগ ও অটোরিকশাটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এসময় আমি বাঁধা দিলে তাদের সাথে ধস্তাধস্তি হয়, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছিনতাইকারীদের একজন নিজের ছুরিতে নিজে আহত হয়। আমার ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা আসলে অপরজন পালিয়ে যায়। পরে আহত ছিনতাইকারী সোহানকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাই।
জানা যায়, ছিনতাইকারী জাহিদ ও সোহানদের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক, চুরি-ছিনতায়সহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ্ আলম বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অটোরিশা চালক নিজে বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ছিনতায়কারী চক্রের সদস্য সোহান নামে একজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। জাহিদ নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তি আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’