শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নাশকতার ঘটনায়

ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাসহ ৬৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৩:৪৯ পিএম
ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাসহ ৬৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিএনপির কার্যালয়ে দলীয় কর্মসূচি পালনের সময় নাশকতার ঘটনায় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাসহ ৬৪ জনকে নামীয় এবং ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী হয়ে বিস্ফোরক ও অস্ত্র আইনে মামলাটি করেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এমরান হোসেন স্বপন।

রোববার রাতে মামলার তথ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। তিনি জানান, মামলাটি আমলে নিয়ে ফরিদগঞ্জ থানাকে তদন্তসহ পরবর্তী আইনী প্রক্রিয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছেন বিচারক।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন– ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী (৭৫), উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ সরকার (৬৫), উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খাজে আহমেদ মজুমদার (৪৬)। বাকি আসামিরাও ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী।

Model Hospital

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২২ সালের ১ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার কালির বাজার রাস্তার মাথায় মোড়ের দক্ষিণ পাশে সিরাজ সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ঘোষিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিল। ওই সময় ১ নং আসামি খাজে আহমেদ মজুমদারসহ তার সহযোগী প্রায় দেড় শতাধিক লোক কর্মসূচিতে আসা নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। একই সময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র এবং পিস্তল হাতে আতঙ্ক ও ভীতির সৃষ্টি করে। কয়েকজন একত্রিত হয়ে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা ফায়ার করে। ওই সময় বিএনপি নেতা-কর্মীদের তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে কয়েক লাখ টাকাও দিতে হয়।

মামলার বাদী এমরান হোসেন বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে বিএনপি নেতা-কর্মীরা ঠিক করে কথা বলতে পারেনি, দলীয় কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। বহু নির্যাতন, হত্যা এবং মামলা-হামলার শিকার হয়েছে। যে কারণে ওই সময় এই ঘটনায় মামলা করতে পারিনি। তবে এখন পরিবেশ অনুকূলে থাকায় মামলা করেছি। আমি এই মামলার ন্যয় বিচার দাবি করি।’

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’