শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহতলীতে নাইট মিনি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১০:৪১ পিএম
শাহতলীতে নাইট মিনি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ সম্পন্ন

মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে শাহতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন মাঠে নাইট মিনি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট খেলায় প্রধান অতিথি'র বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

চাঁদপুর সদর উপজেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মো: শান্ত গাজী ও শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো: রবিউল গাজী রবি’র উদ্যোগে মহান ২১শে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে নাইট মিনি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৫ ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৬ফেব্রুয়ারী (বুধবার) সন্ধ্যা ৭টায় শাহতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন মাঠে খেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: কামাল মিজি’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

প্রধান অতিথি বক্তব্যে বলেন, ক্রিকেট বাংলাদেশসহ বিশ্বে সুনাম অর্জন করেছে। ক্রিকেট একটি জনপ্রিয় খেলা। আজকে অনেক দর্শক খুবই ভালো লাগছে। জীবনের জন্য খেলাধুলা অপরিহার্য। যুব সমাজকে মাদক থেকে ফিরিয়ে আনতে হলে খেলার সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। খেলাধূলা মনের বিকাশ করে। যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার অপরিহার্য। । এ খেলার মাধ্যমে এ এলাকাকে উজ্জীবিত করেছে। আজকের খেলা একটা প্রতিযোগিতা মূলক খেলা হয়েছে। শুরু এবং শেষটা খুবই ভালো হয়েছে।

Model Hospital

তিনি বলেন, মাদককে না বলুন। মাদক পরিহার করুন । আমরা মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। মাদকের কোন খবর ফেলে আমাদের জানাবে আমরা মাদক কারবারি ও মাদক গ্রহনকারীকে আইনে আওতায় আনব। আমি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মো: শান্ত গাজী ও শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো: রবিউল গাজী রবির যৌথ পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আজকে যুব সমাজ যে আয়োজন করছে খুবই ভালো। আমরা যুব সমাজকে চাই খেলার মাঠে নিয়ে আসতে। খেলাধূলায় সম্পৃক্ত সাকলে, মাদক থেকে দূরে থাকা যাবে। আমাদের যুবসমাজরা মোবাইলের মধ্যে নেই, খেলার মধ্যে রয়েছে। এটি খুবই ভালো উদ্যোগ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর সদর থানা তাঁতীদলের আহ্বায়ক মো: জালাল দেওয়ান, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন তাতীদলের সভাপতি মো: শাহাদাত খান, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আরিফ তালুকদার, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব গাজী, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মজিব কারী, চাঁদপুর সদর থানা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো: শওকত কারী, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর খান, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আব্দুল আজিজ মিজি, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: জরুল হক গাজী (নুরু), ৬নং মৈশাদী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: হোসেন সরকার, বিএনপি নেতা মো: মহসিন তপাদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: জাহাঙ্গীর মিজি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জসীম মিজি, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রাশেদ নিজাম রাজুসহ অন্যানরা।

এসময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী, বিশেষ অতিথি ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ, অনুষ্ঠানের সভাপতি ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: কামাল মিজিকে ক্রেস্ট প্রদান করেন আয়োজকবৃন্দ।

খেলায় চ্যাম্পিয়ান দল ভাটেরগাঁও এলিভেনকে পুরস্কার (ফ্রিজ) প্রদান করেন প্রধান অতিথি চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী এবং রানার্সআপ দল বাবুরহাট বন্ধুমহলকে পুরস্কার প্রদান করেন বিশেষ অতিথি ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদসহ অন্যান্যরা।

উল্লেখ্য, নাইট মিনি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ভাটেরগাঁও এলিভেন ও বাবুরহাট বন্ধুমহল ফাইনাল খেলায় অংশ গ্রহন করে। ফাইনালে ভাটেরগাঁও এলিভেন জয়লাভ করে। খেলায় মোট ১২টি দল অংশগ্রহন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: কামাল মিজি। তিনি বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’