শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জ সরকারি কলেজে বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসব

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৭:২৬ পিএম
ফরিদগঞ্জ সরকারি কলেজে বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসব
ফরিদগঞ্জ সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার পর এবছর প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসবের।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫) ফরিদগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে দিন ব্যাপি এই বসন্ত বরণ ও  পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়।
কোনটির নাম ‘হ্যাং ওভার’ আবার কোনটির নাম “সিঙ্গেল” এমন বাহাড়ি নাম ও ভিন্ন স্বাদের শতাধিক পিঠার সমাহার সাজিয়ে বসেছে শিক্ষার্থীরা। শুধু পিঠার নামেই বৈচিত্র্যতা নয়, প্রতিটি পিঠার স্ট্রলেরও ছিলো দৃষ্টিকাড়া ভিন্ন রকম সব নাম। শীতকালীন পিঠার পাশাপাশি গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা পিঠাগুলোকে পরিচয় করিয়ে দিতে ফরিদগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত হয় দিন ব্যাপি এই পিঠা উৎসবের।
শিক্ষার্থীদের নিজেদের হাতে বানানো হরেক রকমের পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেছিলো প্রতিটি স্টলে। মিষ্টি স্বাদের নানান রকমের এসব পিঠার পাশাপাশি কয়েকটি স্ট্রলে দেখা মিলেছে ভিন্ন রকমের কেক এবং চটপটি ও ফুসকার। উৎসবে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে প্রায় প্রতিটি স্ট্রলেই স্থান পেয়েছে বিশেষ লেখা সম্বলিত পোস্টার।
বাহারি নামের নানা রকমের পিঠার স্বাদ নিতে পুরো দিনব্যাপী মেলার স্ট্রল গুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই ছিলো। উৎসবের আমেজে পছন্দের পিঠাটি হাতের কাছে পেয়ে আনন্দিত ক্রেতারা। বাড়ি থেকে বানিয়ে আনা এসব পিঠাগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি করতে পেরে সন্তুষ্টির কথা জানান বিভিন্ন স্ট্রলের পিঠা বিক্রি করা শিক্ষার্থীরা।
ফরিদগঞ্জ সরকারি কলেজে বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসবে পিঠার স্ট্রল পরিদর্শন করছেন কলেজের অধ্যক্ষ সহ অন্যান্য শিক্ষকরা।
আয়োজকরা জানান গ্রাম-বাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী পিঠা হারিয়ে যেতে বসেছে। বাঙ্গালীর ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দিতে এবং হরেক রকমের পিঠার সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে এমন  আয়োজন। উৎসবটি শিক্ষার্থীরা দারুন ভাবে উপভোগ করছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ সকলের সরব উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো কলেজ ক্যাম্পাস।
ফরিদগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ শাহ মো: মাছুম বিল্লাহ্ জানান, বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসবকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের এমন সুন্দর পরিবেশনা ও উপস্থাপনা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রতি অনেক আগ্রহী এই আয়োজন তারই দৃষ্টান্ত। আমি অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর  কলেজের ইতিহাসে এই প্রথম এমন কোন আয়োজন করতে পেরে আমি  আনন্দিত। বসন্ত বরণ বাঙালির একান্তই নিজস্ব সংস্কৃতি। এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা যেন এসব উৎসবের সাথে পরিচিত থাকে সেজন্য নিয়মিত এমন আয়োজনের প্রচেষ্টা থাকবে। কলেজ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতি চর্চার এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের সকল অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রেখে শিক্ষামুখী করে তুলবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’