শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে ওয়ানলাইট ফাউন্ডেশনের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৯:০৫ পিএম
ফরিদগঞ্জে ওয়ানলাইট ফাউন্ডেশনের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া গ্রামে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করেছে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘দ্যা ওয়ানলাইট ফাউন্ডেশন’।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দেশের স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদলের অংশগ্রহণ এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় ধানুয়া বাজার সংলগ্ন স্থানে দিনব্যাপি এ ক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গ্রামীণ দুস্থ ও অসহায় জনগণকে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা পরামর্শ এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এ ক্যাম্প আয়োজন করা হয়।
ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন, কার্ডিওলজিস্ট ডা. আল-মামুন সিকদার, ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আবু বকর সিয়াম, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. মাসুদ রানা নয়ন এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পটির মিডিয়া পার্টনার বাংলাদেশ খবর। স্বেচ্ছাসেবী অংশীদার HOV AUST চ্যাপ্টারের নেতৃত্ব দেন শাহ মুর্তোজা মোর্শেদ এবং আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের লেকচারার মিসেস আফিয়া আহসান।
ল্যাব সাপোর্টে ছিলেন- অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হিউম্যান ফ্যাক্টরস ইঞ্জিনিয়ারিং সোসাইটি (OSHEFES)।
এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘দ্যা ওয়ানলাইট ফাউন্ডেশন’র প্রতিষ্ঠাতা নূর সারা কাদের বলেন, ‘আমরা ফরিদগঞ্জের মানুষের জন্য ফ্রি চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প আয়োজন করেছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু চিকিৎসাসেবা দেওয়া নয় বরং স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো। সুস্থ জীবনযাত্রার বিষয়ে মানুষকে আরও আগ্রহী করে তোলা।
‘দ্যা ওয়ান লাইট ফাউন্ডেশন‘ সমাজের নানা ইস্যুতে ইতিবাচক পরিবর্তনে কাজ করছে। এছাড়া সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে গত কয়েক বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বেশ প্রশংসিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ সময় মেডিকেল ক্যাম্পের পরিদর্শন করেন, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ্ আলম, দৈনিক বাংলাদেশের খবর পত্রিকার কান্ট্রি এডিটর আতাউর রহমান সোহাগ, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম ফরহাদসহ প্রমূখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’