শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করতে হবে : জয়নাল আবেদীন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৫ মার্চ, ২০২৫, ১০:০১ পিএম
সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করতে হবে : জয়নাল আবেদীন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) ও চাঁদপুর জেলার সাবেক সভাপতি জননেতা শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, গত পরশু রাত্রে হাইমচর উপজেলার ২নং উত্তর আলগী দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৩নংওয়ার্ডে অবস্থিত কেবিএন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ব্যবসায়ীদের ২৫ টি দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। এই ২৫ টি দোকানের সাথে প্রতিটি পরিবারের রুটি রুজির সম্পর্ক রয়েছে । এ অগ্নিকাণ্ডে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাই অসহায় পরিবারদের প্রতি সরকারের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করছি। যাতে তারা পুনরায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক ভাবে পরিচালনা করতে পারে সেই ব্যবস্থা টুকু করে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলাম দেশ এবং মানবতার কল্যাণে কাজ করে। আমরা করোনা কালীন দুঃসময়ে আমাদের সাধ্য অনুযায়ী মানবতার পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও সাধ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে থাকবে ইনশাআল্লাহ। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ আলোচনা করে সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবো ইনশাআল্লাহ। আমি অনুরোধ করবো সরকারি সহায়তার পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন এবং এলাকার বিত্তশালী সকলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারলে অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করতে হবে।
হাইমচরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও ব্যবসায়ীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন ইসলামী আন্দোলনের কুমিল্লা বিভাগীয় সংগঠনিক সম্পাদক জননেতা শেখ মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন।
তারা আমাদের ভাই তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগী এবং এলাকাবাসীর কাছে জানা গেল ফায়ার সার্ভিসের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং বিদ্যুৎ অফিসের অবহেলায় ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দেখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ রইল।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে জননেতা শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের সাথে ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলার অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাহবুব ইমরান মাসুম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোশারফ হোসেন, হাইমচর উপজেলা সভাপতি ডাক্তার মোঃ শফিউল্লাহ, সেক্রেটারি ফখরুল আলম শিমুল, মোঃ রুহুল আমিন সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’