শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইটভাটা বন্ধের আগে বিকল্প ভাবুন

শাহরাস্তির হাজারো শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

মোঃ রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ, ২০২৫, ৬:৫০ পিএম
শাহরাস্তির হাজারো শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

বিভিন্ন ইটভাটায় কর্মরত শ্রমিকদের একাংশের সংগৃহিত ছবি।

পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে সরকার সারাদেশে ইটভাটা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না নিয়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শাহরাস্তির ইটভাটাগুলোতে কর্মরত হাজারো শ্রমিক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ভয়াবহ সংকটে পড়বেন।

চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলা কৃষিনির্ভর এলাকা হলেও এখানে ইটভাটা শিল্প অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শত শত পরিবার এই খাতের ওপর নির্ভরশীল।

শাহরাস্তিতে প্রায় ২০টির বেশি ইটভাটা রয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আশপাশের জেলাগুলোর নির্মাণ প্রকল্পেও ইট সরবরাহ করে। এই ভাটাগুলোতে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক সরাসরি কাজ করেন, যাদের মধ্যে অনেকে মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে কৃষিকাজের ফাঁকে এখানে জীবিকা নির্বাহ করেন।

শুধু ইটভাটা শ্রমিকরাই নন, এই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রাকচালক, মাটি সরবরাহকারী, কয়লা ব্যবসায়ী ও নির্মাণ সামগ্রী বিক্রেতারাও এই খাত থেকে উপার্জন করেন। ফলে হঠাৎ করে ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Model Hospital

শাহরাস্তির একটি ইটভাটার শ্রমিক আব্দুল মান্নান বলেন, “আমাদের পুরো পরিবার এই কাজের ওপর নির্ভরশীল। ভাটা বন্ধ হয়ে গেলে আমরা খাবো কী, সন্তানদের লেখাপড়া চালাবো কীভাবে?”

শুধু শ্রমিকরাই নন, ইটভাটার মালিকরাও বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই ব্যাঙ্ক ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। আকস্মিকভাবে ভাটা বন্ধ হলে তারা অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

পরিবেশবিদরা বলছেন, ইটভাটা শিল্প ধীরে ধীরে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে অগ্রসর হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে জ্বালানি-সাশ্রয়ী হফম্যান কিলন, ভাঁজ করা ইট প্রযুক্তি (VSBK), স্বয়ংক্রিয় ব্রিক ফিল্ড (ABF) ইত্যাদির কথা বলা হচ্ছে। এ ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে এবং কর্মসংস্থান বজায় রেখেই শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।

সরকারের উচিত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করে আকস্মিকভাবে ইটভাটা বন্ধ না করা। এ বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের উচিত পরিবেশবান্ধব ইট তৈরির প্রযুক্তি উৎসাহিত করা, ইটভাটা শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা, মালিকদের জন্য প্রযুক্তি হালনাগাদ করতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা, পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতে পর্যায়ক্রমে ইটভাটা সংস্কার করা।

পরিবেশ রক্ষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি শ্রমজীবী মানুষের জীবনধারা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখাও সমান জরুরি। তাই ইটভাটা বন্ধের আগে সরকারকে অবশ্যই বাস্তবসম্মত ও মানবিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital