শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আল-আকসা ধ্বংস করা হয়েছে দাবিতে ভাইরাল ছবিটি ভুয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:৪৪ পিএম
আল-আকসা ধ্বংস করা হয়েছে দাবিতে ভাইরাল ছবিটি ভুয়া

গত ১৮ মার্চ ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজা উপত্যকায় ফের হামলা শুরু করলে ফিলিস্তিনে মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করে। এই সংকটের মধ্যে সম্প্রতি ইসলামের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হিসেবে পরিচিত জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে দাবিতে একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশি ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, আল-আকসা মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবিটি সত্য নয়। প্রকৃতপক্ষে, আল-আকসা মসজিদের কোনো ক্ষতি হয়নি। আল-আকসার পাশে অবস্থিত সোনালি গম্বুজবিশিষ্ট ‘ডোম অব দ্য রক’-এর আদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ছবিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি হামলায় আল-আকসা ধ্বংসের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে।

এই ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে বাংলাদেশ সময় গত ৪ এপ্রিল ভোর ৫টা ২০ মিনিটে ইংরেজিতে ‘রোজি’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একই ছবি খুঁজে পাওয়া যায়। পোস্টটির আরবি ভাষার ক্যাপশনের ভাবানুবাদ করলে দাঁড়ায়: ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: যদি কোনো ভোরে পুরো আরব জাতি এমন একটি দৃশ্যের মুখোমুখি হয়, তাহলে তাদের প্রতিক্রিয়া কী হবে? শঙ্কা হলো, হয়তো আমরা আবারও সেই চিরচেনা চিত্রটাই দেখব—নিন্দা, প্রতিবাদ, ধিক্কার আর কিছুটা প্রতীকী মিছিল-মানববন্ধন। কিন্তু এরপর? এরপর কি কিছু বদলাবে?’

পরদিন, ৫ এপ্রিল আহমেদ এম স্ক্র্যান নামে একটি ফেসবুক প্রোফাইলে একই ছবিসহ কাছাকাছি ধরনের আরও দুটি ছবিযুক্ত একটি পোস্ট পাওয়া যায়। এই পোস্টের ক্যাপশনে আরবি ভাষায় লেখা হয়, ‘ভাবুন তো, ঘুম থেকে উঠে যদি হঠাৎ এমন একটা দৃশ্য চোখে পড়ে।’

Model Hospital

এসব পোস্টের বরাতে বোঝা যায়, ছবিটি প্রাথমিকভাবে আল-আকসা মসজিদের প্রতীকী রূপ হিসেবেই সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল।

তবে ছবিতে দেখানো স্থাপনাটি আল-আকসা মসজিদ নয়। এটি আল-আকসার সংলগ্ন সোনালি গম্বুজবিশিষ্ট ‘ডোম অব দ্য রক’। জেরুজালেমের পবিত্র হারাম আল-শরীফ চত্বরে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ ও ডোম অব দ্য রক—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন স্থাপনা। আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ আদায় করেন। অপরদিকে, ডোম অব দ্য রক একটি ধর্মীয় স্মৃতিচিহ্ন, যেখান থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মেরাজে গমন করেছিলেন বলে মুসলিমরা বিশ্বাস করেন।

পরবর্তীতে, ছবিটি এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম সাইটইঞ্জিনে পরীক্ষা করে দেখা যায়, এটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ।

আলোচিত ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে তৈরি—এটি নিশ্চিত হওয়ার পর আল-আকসার বর্তমান পরিস্থিতি জানতে ফিলিস্তিনের স্থানীয় ফ্যাক্টচেকারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। তারা নিশ্চিত করেছেন, আল-আকসা মসজিদে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে তুরস্কভিত্তিক আনাদোলু এজেন্সির গত ৬ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত রোববার আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ৫০০রও বেশি অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী জোরপূর্বক প্রবেশ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অনুপ্রবেশকারীদের পুলিশি পাহারায় সহযোগিতা দেওয়া হয়। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া ইহুদি ধর্মীয় উৎসব পাসওভারকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি এ ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়েছে।

ফিলিস্তিনি ওয়াক্ফ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে, অর্থাৎ পবিত্র রমজান মাসে অন্তত ২১ বার এ ধরনের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এ ছাড়া বছরের প্রথম তিন মাসে মোট ১৩ হাজারের বেশি ইসরায়েলি আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছে।

এটিই আল-আকসার সবশেষ পরিস্থিতি বলে ফিলিস্তিনের স্থানীয় ফ্যাক্টচেকাররাও রিউমর স্ক্যানারকে নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসন্ধান করে, সম্প্রতি আল-আকসা মসজিদে অবস্থান করা একাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের ফেসবুক পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। আল-আকসার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে তারা নিশ্চিত করেছেন, আল-আকসা মসজিদে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

সুতরাং, ইসরায়েলি হামলায় আল-আকসা মসজিদ ধ্বংস হয়ে গেছে দাবিতে ডোম অব দ্য রকের আদলে তৈরি একটি এআই-নির্মিত ছবি প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’