বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কৃষি জমি’সহ বাড়ি-ঘর রক্ষায়

হাজীগঞ্জে বালুমহাল অপসারণে জেলাপ্রশাসকের কাছে আবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০২৫, ৯:০৯ পিএম
হাজীগঞ্জে বালুমহাল অপসারণে জেলাপ্রশাসকের কাছে আবেদন

হাজীগঞ্জ বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলী কৃষি মাঠের জমিসহ বাড়ি-ঘর রক্ষার্থে পৌরসভাধীন আলীগঞ্জ -এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পাড়ের বালুমহাল অপসারণে জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মোহাসীন উদ্দিনের হাতে আবেদনপত্র তুলে দেন ক্ষতিগ্রস্ত ও এন্নাতলী গ্রামের পক্ষে মো. তাজুল ইসলাম, মো. জিল্লুর রহমান, মো. আ. রাজ্জাক ও মো. ইমাম হোসেন।

হাজীগঞ্জ বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলী কৃষি মাঠের জমিসহ বাড়ি-ঘর রক্ষার্থে পৌরসভাধীন আলীগঞ্জ এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পাড়ের বালুমহাল অপসারণে জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মোহাসীন উদ্দিনের দ্বারস্থ হয়েছেন, গ্রামের কৃষকসহ নিরিহ ও অসহায় লোকজন। ওই ইউনিয়নের এন্নাতলী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্তের সম্মুখিন লোকজনের গণস্বাক্ষরকৃত আবেদন মঙ্গলবার (১৩ মে) বেলা ১১টার দিকে জেলাপ্রশাসকের হাতে তুলে দেন, গ্রামবাসীর পক্ষে মো. তাজুল ইসলাম, মো. জিল্লুর রহমান, মো. আ. রাজ্জাক ও মো. ইমাম হোসেন।

এসময় বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত বলে জানান, জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আবেদনপত্র প্রদানকালে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রহিম বাদশা, সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সুমন, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান মাহমুদসহ ওই গ্রামের বেশ কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আবেদনপত্রের অনুলিপি ভূমি মন্ত্রণলায়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিব, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চাঁদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং চাঁদপুর ও হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবকে প্রদান করা হয়েছে।

আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, ডাকাতিয়া নদীর দক্ষিণ-পশ্চিম পাড় এবং নদীর চরের পাশে অবস্থিত উপজেলার ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলী গ্রাম। নদীর উত্তর ও পূর্বপাড় হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৯নং ওয়ার্ড আলীগঞ্জ এলাকা। গত কয়েক বছর ধরে নদীর পূর্বপাড়, আলীগঞ্জ এলাকায় বেশ কয়েকটি বালু মহাল গড়ে উঠেছে। এই বালু ব্যবসার কারণে নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত এন্নাতলি চরের প্রায় সহস্রাধীক শতাংশ কৃষিজমি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। এতে এন্নাতলীসহ নদী সংশ্লিষ্ট আশপাশের গ্রামের বেশ কয়েকজন কৃষক ও দরিদ্র মানুষ ইতিমধ্যে কৃষিজমি এবং ভিটে-মাটিহীন হয়ে পড়েছেন।

Model Hospital

এছাড়াও পরিবর্তন হয়েছে, নদীর গতিপথ এবং ভাঙ্গন অব্যাহৃত থাকায় কৃষিজমির পাশাপাশি অনেকের বাড়ি-ঘর এখন অস্বিস্ত সংকটে। পাশাপাশি বাতাসে বালু ওড়ে ফল ও শাকসবজি গাছের উপর পড়ার কারণে বেশ কিছু কৃষিজমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। উল্লেখ্য, ডাকাতিয়া নদীর পূর্বপাড়ে নদীর চরে পৌরসভাধীন আলীগঞ্জ এলাকায় যখন বালুমহাল স্থাপন ও বালু ব্যবসা শুরু হয়। তখন বালু পড়ে চরের জমিগুলো চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে অসহায় কৃষকেরা প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীদের কাছে তাদের শেষ সম্বল জমিগুলো কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। ফলে কৃষকসহ অর্ধ-শতাধিক সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এখন আবার অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং ফসল উৎপাদনও ব্যাপক হারে কমেছে।

তাছাড়া, নদীর উত্তর পাড়ে উপজেলা ভূমি অফিসের ভবনটি পুরানো হওয়ায় এমনিতেই জরাজীর্ণ, তার উপর প্রতিনিয়ত নদীর পাড় ভাঙ্গনে ভবনটিও হুমকির মুখে। কারণ, নদীর পূর্বপাড়ে প্রতিনিয়ত ১৫/২০টি ট্রলার অবস্থান করে। এতে চলমান ট্রলারগুলোতে নদীর পশ্চিমপাড় দিয়ে চলাচল করতে হয়। এছাড়াও বালু আনলোডের সময় ট্রলারগুলো যখন ঘোরানো হয়, তখন ট্রলারের ঘুর্ণিয়মান পাখায় নদীর তলদেশের মাটি ক্ষয় হতে থাকে। ফলে নদীর পশ্চিম পাড় ভেঙ্গে জমিগুলো নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে। চলতি বছর নদী ভাঙ্গনে এন্নাতলী কৃষি মাঠের একমাত্র সেচ পাম্পটিও ভেঙ্গে পড়ে। পরবর্তীদের কৃষকদের ক্ষোভের মুখে বালু ব্যবসায়ীরা নতুন করে সেচ পাম্পটি স্থাপন করে দিতে বাধ্য হন। আবার নদীর পূর্বপাড়ে বালু আনলোড করার কারণে প্রতিনিয়ত বালু পড়ে নদীর পূর্বপাড় ভরাট হচ্ছে।

আবেদনপত্রে সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন এলাকায় এসব বালু মহালের ইজারা দেওয়া হয়েছে। এক বছরের (বাংলা সন ১৪৩২) জন্য পৌর ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড এলাকার আলীগঞ্জ-এনায়েতপুর বালুঘাট ও সংযোগ বালুঘাট সমূহ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকায় সরকারি মূল্যে ইজারা দেওয়া হয়। হিসাবমতে, প্রতিটি বালু মহাল গড়ে ৫০/৫৫ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। অথচ ইতিমধ্যে কয়েক কোটি টাকার জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে এবং এখনো নদীভাঙ্গন অব্যাহৃত থাকায় একদিকে কৃষিজমি হারিয়ে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়ছেন কৃষকরা, অপরদিকে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ-প্রকৃতি ও নদীর জলজ প্রাণী।

এতে উল্লেখ করা হয়, এন্নাতলীর চরে এক ফসল হয়ে থাকে। বালু ব্যবসার কারণে গ্রামের কৃষকরা জমি হারাচ্ছেন। আবার বালু ওড়ে ফসলি জমিতে পড়ার কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহৃত এবং জমি পতিত হচ্ছে। যার ফলে গরিব কৃষকেরা আরো বেশি অসহায় ও সহায়-সম্ভলহীন হয়ে পড়ছে। যে ক’জন বালু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত তাদের মধ্যে অন্যতম পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর, প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আজাদ মজমুদার (০১৭২২-৫৩৩৪৪৪) ও কামাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

কিন্তু আজাদ মজুমদারের মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়ায় এবং গতবছরের (২০২৪ সাল) ৫ আগস্টের পর তাকে জনসম্মুখে দেখতে না পাওয়ায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে গত ৪ এপ্রিল বিকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ এন্নাতলী গ্রামের কৃষকরা বালু ব্যবসায়ী কামাল হোসেনের (০১৮১২-৫২২৭২৩) সাথে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তাকে ড্রেজার সরানোর অনুরোধ করেন এলাকাবাসী। তখন তিনি পরে বিষয়টি জানাবেন বলেছেন। কিন্তু প্রায় দেড় মাস পার হলেও তিনি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি।

আবেদনপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, বিগত সরকারের প্রভাব বিস্তার করে বালু ব্যবসায়ীরা নিরীহ কৃষকসহ সাধারণ মানুষের জমি ও ফসলের ক্ষতি করেছেন এবং এখনো ক্ষতি করেই যাচ্ছেন। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সাধারণ মানুষ তাদের ক্ষমতার কাছে অসহায়। দীর্ঘদিন ধরে এসব লোকজন প্রতিবাদ করে আসলেও কোন লাভ হয়নি। যেহেতু, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে, সেহেতু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরাও আশার আলো দেখছেন। তারা আশাবাদী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বালুমহাল অপসারণ করে কৃষিজমিসহ তাদের বাড়ি-ঘর রক্ষা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তাই, জেলাপ্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন ওই এলাকার লোকজন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital