শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পরীক্ষিত দুর্নীতিবাজদের আগামি নির্বাচনে না বলুন : মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২১ জুন, ২০২৫, ১০:২৭ পিএম
পরীক্ষিত দুর্নীতিবাজদের আগামি নির্বাচনে না বলুন : মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম 
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেছেন, ইসলাম ছাড়া মানবতার মুক্তি নাই। সমাজজীবন ও রাষ্ট্রজীবনে ইসলাম পরাজিত থাকার কারনেই সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি সয়লাব হয়েছে। হাট দখল, বাজার দখল, ঘাট দখল, লুটপাটে পুরো দেশ চেয়ে গেছে।  গরিবের ত্রাণের টিন ও চাল চুরি আজ অতি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনো অবস্থায় যেন তেনভাবে করার চেষ্টা করা হলে জাতি তা মেনে না। তিনি বলেন, পরীক্ষিত দুর্নীতিবাজদের আগামি নির্বাচনে না বলুন। সৎ, যোগ্য, আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসুন।
আজ শনিবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে সকাল ৯টায় মতলব উত্তর সুজাতপুর বাজারের একটি মিলনায়তনে চাঁদপুর- ২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) নির্বাচনী আসনের প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূল দায়িত্বশীলদের মতামত গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সভাপতি ও জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্পাদক শায়খুল হাদিস আল্লামা মকবুল হোসাইন, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবদিন।
জেলা সেক্রেটারি ও জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কেএম ইয়াসিন রাশেদসানীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা নাসির উদ্দীন, আলহাজ শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, মতলব দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা আনসার আহমাদ, উত্তর সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান, ডালিম চৌধুরী প্রমুখ।
এদিকে আজ বিকাল ৩টা থেকে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ ) আসনের প্রার্থী বাছাই স্থানীয় আরাফাত কমিউনিটি সেন্টারে সম্পন্ন হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ আসনের প্রার্থী বাছাই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্পাদক শায়খুল হাদিস আল্লামা মকবুল হোসাইন, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবদিন, জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, দীনি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, মাওলানা নুরুদ্দীন খান মনির পাঠান, মাওলানা আবু মুসা, মওলানা হুমায়ুন কবির মাওলানা হেলাল আহমাদ, জানে আলম জুয়েল প্রমুখ।
অপরদিকে জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উদ্যোগ শনিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় হাজীগঞ্জের একটি বিলাসবহু একটি ভবনে চাঁদপুর- ৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের মতামত গ্রহণ অনুষ্ঠান ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রার্থী বাছাই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্পাদক শায়খুল হাদিস আল্লামা মকবুল হোসাইন, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবদিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সভাপতি ও জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায় হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, জেলা জয়েন্ট সেক্রেটারি শাহজামাল গাজী সোহাগ, শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, হাজিগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আলহাজ মোহাম্মদ আলী, হাফেজ শাহাদাত হোসাইন, সেক্রেটারি, এমদাদুল হক সুমন মোল্লা, মুফতি ইকবাল হোসাইন, মাওলানা আবদুস সালাম, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’