শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে সম্প্রীতির রাজনীতিই হোক আমাদের আগামী দিনের প্রত্যাশা : শেখ জয়নাল আবেদীন

চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন হাতপাখার প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:২২ পিএম
চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন হাতপাখার প্রার্থী

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাধারণ রোগীদের কে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন হাতপাখার প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।

চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিমুল্লাহ সেলিম কে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন চাঁদপুর-৩ আসনে হাতপাখার প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।
বিকেলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিমুল্লাহ সেলিমের অসুস্থতার খবর পেয়ে তার খোঁজখবর নিতে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হসপিটালে যান তিনি।
সাধারণ রোগী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের খোঁজখবর নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক চাঁদপুর-৩ আসনের প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, চাঁদপুরে আমাদের রাজনৈতিক ঐতিহ্য রয়েছে। এখানে সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা আমরা একটি পরিবারের মত।
আমরা চাই শত রাজনৈতিক মতবিরোধের মধ্যেও চাঁদপুরের ইতিহাস ঐতিহ্য রক্ষা করতে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল বিগত ১৭ বছরে স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকার রাজনৈতিক শিষ্টাচার ধ্বংস করে দিয়েছে। চাঁদপুর সহ সারা দেশে এক নায়ক তন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্যই তাদের এই স্বৈরাচারী আচরণ ছিল। আমরা সেটি থেকে পরিত্রাণ চাই। ছাত্র জনতার আন্দোলনের পর নতুন বন্দোবস্তের মাধ্যমে আবার সেই রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও ইতিহাস ঐতিহ্য ফিরে আসবে। তিনি বলেন, চাঁদপুরে সম্প্রীতির রাজনীতিই হোক আমাদের আগামী দিনের প্রত্যাশা।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাধারণ রোগীদের কে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন হাতপাখার প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।
পরে তিনি হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে ঘুরে বিভিন্ন রোগীদের খোঁজখবর নেন। পরিপূর্ণ চিকিৎসা সেবার বিষয় তিনি সাধারণ রোগীদের আশ্বস্ত করে বলেন, চিকিৎসা সেবা সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার। এটা শতভাগ নিশ্চিত করতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কাজ করে যাবে।
আগামী দিনে আপনাদের ভোটে ইসলামী আন্দোলন বিজয়ী হলে মানুষের সকল মৌলিক অধিকারগুলো আগে নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়াও তিনি হাসপাতালের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে হসপিটাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলনের চাঁদপুর জেলা সেক্রেটারী কেএম ইয়াসিন রাশেদসানী, জয়েন্ট সেক্রেটারী শাহ জামাল গাজী সোহাগ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী আলহাজ্ব মামুনুর রশিদ বেলাল, জেলা যুব আন্দোলনের সভাপতি মুফতী ইমরান হোসাইন, জেলা ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ডিএম ফয়সাল, পৌর ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফেজ শাহাদাত হোসাইন, সেক্রেটারী শরিফুল ইসলাম মৃধা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’