শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে বিজয়ীর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী উদ্যোক্তা দিবস পালিত

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৩০ পিএম
চাঁদপুরে বিজয়ীর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী উদ্যোক্তা দিবস পালিত

দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিকে গতিময় করতে কাজ করে যাচ্ছেন নারী উদ্যোক্তারা। উদ্যোক্তা হিসেবে অর্থনীতিতে নারীর প্রবেশ যেমন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করছে, তেমনি ছড়িয়ে দিচ্ছে নারীর ক্ষমতায়নের দৃষ্টান্ত।

গত ১৯ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী উদ্যোক্তা দিবস। বিশ্বের নারী উদ্যোক্তাদের সম্মান জানাতে এবং নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে প্রতিবছর আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালন হয়। তারই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুরের প্রথম প্রশিক্ষন বেইজ নারী সংগঠন বিজয়ীর উদ্যোগে জমকালো আয়োজনে পালিত হলো বিশ্ব নারী উদ্যোক্তা দিবস ২০২৫।

আমরা নহে দেবী, নহে সামান্য নারী,আমরা নারী আমরাই পারি, আমরা বিজয়ী “এই স্লোগানে চাঁদপুরের ত্রিনদীর মোহনায় বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থার ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান কেক কেটে আলোচনা সভার শুভ সূচনা করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা বলেন। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ করা হয়।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে নৌভ্রমন, মিনি কক্সবাজার পরিদর্শন, নেটওয়ার্কিং, আড্ডা, এবং নানা রকম খাবারের স্বাদ নিয়ে তাঁরা হেসে খেলে দিবসটি উদ্‌যাপন করেন।

Model Hospital

তানিয়া ইশতিয়াক খানের পক্ষ থেকে নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে বিভিন্ন মজার মজার গেমস এবং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠানে। তিন ক্যাটাগরিতে সেরা তিনজনকে নির্বাচিত করে পুরস্কৃত করা হয়।

আন্তর্জাতিক নারী উদ্যোক্তা দিবসের এই উদ্‌যাপন নিয়ে বিজয়ীর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান বলেন, চাকরি জন্য বসে না থেকে নিজ মেধাকে কাজে লাগানো উচিত । উদ্যোক্তা হতে হলে সবার আগে জরুরি নেটওয়ার্কিং। যাঁরা উদ্যোক্তা হতে চান বা নতুন উদ্যোক্তা, তাঁদের জন্য নেটওয়ার্ক বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি যিনি যেসব পণ্য নিয়ে কাজ করতে চান, সেটা সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানতে হবে।

তিনি আরও বলেন নারীরা ঘরে-বাইরে সমানভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখনো অনেক নারী ব্যবসা শুরু করতে ভয় পান বা সুযোগ পান না। তাদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই চাঁদপুরের প্রতিটি নারী নিজের পায়ে দাঁড়াক। প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, বিপণনসহ সব ধরনের সহযোগিতা আমরা দিয়ে যাবো।ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হতে নারীরা আরও বেশি করে এগিয়ে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তানিয়া ইশতিয়াক ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’