শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে নারী সমাবেশ ও উঠান বৈঠকে 

ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হলে সকল ধর্মের মানুষের ন্যায্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে: লায়ন হারুন

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:৫৪ পিএম
ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হলে সকল ধর্মের মানুষের ন্যায্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে: লায়ন হারুন
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদ বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খননের মাধ্যমে এ দেশের কৃষকের ভাগ্যোন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন।
তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের নারী সমাজ আজ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মা–বোনরা যদি বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নে বিশ্বাস রেখে ধানের শীষে ভোট প্রদান করেন, তবে সেই ৩১ দফাকে ভিত্তি করেই নতুন বাংলাদেশের নির্মাণ শুরু হবে।
রোববার (২৩ নভেম্বর ২০২৫) বিকেলে ফরিদগঞ্জের গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের শ্রীকালিয়া গ্রামের হরিসভা মন্দিরের সামনে এবং ডুমুরিয়া মোল্লা বাড়িতে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন উপলক্ষে নারী সমাবেশ ও উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে একটি প্রতিক্রিয়াশীল মহল সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের অনুভূতি ও অস্তিত্বকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু তাদের উন্নয়ন বা নিরাপত্তার জন্য দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা রাখেনি। শ্রীকালিয়া হরিসভা মন্দির এলাকায় সড়কের বেহাল অবস্থাই তার প্রমাণ। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন হবে এবং ফরিদগঞ্জে ধানের শীষ বিজয় নিশ্চিত হলে হিন্দু–মুসলিমসহ সকল ধর্মের মানুষের ন্যায্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। বিএনপির কাছে সব ধর্মের মানুষ সমানভাবে নিরাপদ।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য খলিলুর রহমান মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক নাছির পাটোয়ারী,সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টিপু, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক টুটুল পাটোয়ারী,সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক সেলিম রাঢ়ী, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন পাঠান, পৌর যুব দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক পেয়ার আহমেদ, পৌর যুবদল নেতা শাওন পাঠান, যুবদল নেতা শফিকুল আমিন স্বপন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’