শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সুপারস্টার ফ্যান ক্লাবের জমকালো আয়োজনে চিত্রনায়ক ডি এ তায়েব এর জন্মদিন পালন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:২৮ পিএম
সুপারস্টার ফ্যান ক্লাবের জমকালো আয়োজনে চিত্রনায়ক ডি এ তায়েব এর জন্মদিন পালন

সুপারস্টার ফ্যান ক্লাবের জমকালো আয়োজনে ছোট ও বড় পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ডি এ তায়েবের জন্মদিন জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছে।

ছোট ও বড় পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ডি এ তায়েবের জন্মদিন জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন করেছে সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাব।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজার ইস্কাটন রোডে খাওয়া দাওয়া রেস্টুরেন্টে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা কেক কাটা জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে দেশের নামী শিল্পীরা নাচ, গান ও আবৃত্তি পরিবেশনায় অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

ক্লাবের সভাপতি এপেক্স আহসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী সার্বিক সঞ্চালনা এবং ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ক্লাবের চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ডি এ তায়েব।

Model Hospital

তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের জীবনে জন্মদিন একটি বিশেষ দিন। আমি আল্লাহ এবং আমার বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও সহকর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞ তারা আমাকে জীবনের এ পর্যন্ত আসতে সহায়তা করেছেন। আর কৃতজ্ঞ দর্শকদের কাছে, যারা আমাকে তাদের অফুরন্ত ভালবাসা দিয়ে একজন অভিনেতা হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছেন। জন্মদিনে তাদের ভালবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি সবার কাছে দোয়া চাই যেন, সুস্থ্যভাবে সাফল্যের পথে আরও এগিয়ে যেতে পারি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা মাহবুবা শাহরীন, ডি এ তায়েব ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মুকুল চৌধুরী, এটিএন ল্যান্ড মার্কেট পরিচালক ও চলচ্চিত্র অভিনেতা সুমন মাহমুদ, সংগীত শিল্পী তামান্না হক, বিডি ফিল্ম প্রোডাকশনের এমডি বিডি সৃজন।

অনুষ্ঠানের বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সিনিয়র উপদেষ্টা হারুন উর রশিদ, উপদেষ্টা মনসুর মানিক, সৈকত সিপি, মানিক মিয়া, সহ সভাপতি ডাঃ মাজেদুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জাফর হোসেন সিথিল, সুজন বৈরাগী, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদ মিয়া, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিরো মনির, নারী সম্পাদিকা ফারহানা পাখি, কার্যনির্বাহী সদস্য এস জি ফয়সাল, নাসিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুণীজন, সহশিল্পী, নির্মাতা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ডি এ তায়েবের সুস্থতা, সফলতা এবং দীর্ঘ অভিনয় জীবনের জন্য শুভকামনা জানান। আয়োজনটিকে কেন্দ্র করে পুরো অনুষ্ঠানস্থল উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

আয়োজকরা জানান, ডি এ তায়েব শুধু একজন সফল অভিনেতাই নন, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। তাই তার জন্মদিনকে ঘিরে এমন আয়োজন করা তাদের জন্য গর্বের বিষয়। অনুষ্ঠানের শেষে মনোজ্ঞ সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে আয়োজনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

উল্লেখ্য, ডি এ তায়েব অভিনয়ের পাশাপাশি পুলিশের একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়েজিত আছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ব্যস্ততার পাশাপাশি তিনি নিজেকে সংস্কৃতি অঙ্গনে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। সকলের কাছে তিনি একজন বিনয়ী এবং ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। মিডিয়ায় দুঃস্থ শিল্পীদের পাশে তিনি নীরবে দাঁড়ান।

তাদের সহায়তায় সবসময় সাধ্যমতো এগিয়ে আসেন। তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, একজন নাট্যকার এবং নির্মাতাও। তার লেখা ও নির্মিত অনেক নাটক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। নাটকের পাশাপশি তিনি এখন চলচ্চিত্রেও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তার বহুল আলোচিত সিনেমা সোনাবন্ধু দিয়ে ইতোমধ্যে দর্শক হৃদয় জয় করেছেন। অচিরেই মুক্তি পাবে তার নতুন সিনেমা অন্ধকার জগত। এ সিনেমায় দর্শক তাকে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখতে পাবেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’