শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

একদল কার্ড দিবে, সেটা ব্যক্তিগত নাকি সরকারি টাকাই প্রশ্ন স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন প্রধানীয়ার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
একদল কার্ড দিবে, সেটা ব্যক্তিগত নাকি সরকারি টাকাই প্রশ্ন স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন প্রধানীয়ার

চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা) আসনে সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারনামূলক কার্যক্রম শুরু করেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাকির হোসেন প্রধানীয়া। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকালে তিনি হাজীগঞ্জ ও দুপুরে শাহরাস্তি উপজেলায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁর ফুটবল প্রতীকের প্রচারনা শুরু করেন।

হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জাকির হোসেন প্রধানীয়া বলেন, এ দেশে দু-র্নী-তি বন্ধ করা যাবে না। বেতন দিয়ে সরকারি কর্মচারিরা পারিবারিক ব্যয় ও সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তাই, আগে যুগোপযোগী বেতন কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, একদল কার্ড দিবে কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে দিবে, নাকি জনগনের (সরকারি) টাকাই জনগণকে দিবে। তা কিছুই বলে না। আমি মনে করি, এটি কার্ডের নামে প্র-তা-র-ণা। অপর একদল জান্নাতের বিনিময়ে ভোট চান। এখন প্রশ্ন হলো, শরিয়তের হুকুম-আহকাম না মানলে তারা কিভাবে জান্নাতে নিতে পারবে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবদল কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের কথা বলে। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশত বছরেও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি। অথচ তাদের ঘোষিত কর্মসংস্থানের খবর থাকেনা, আবার কাঙ্খিত উন্নয়নও হয়না। আমি মনে করি, আগে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

Model Hospital

জাকির হোসেন প্রধানীয়া বলেন, আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সাতটি বিষয় নিয়ে কাজ করতে চাই। এতে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে, আবার দেশ ও জনগণের কাঙ্খিত উন্নয়ন হবে। আর তা হলো, উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যেদের কার্যালয় স্থাপন, সততা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্ম, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষক ও শ্রমিকের উন্নয়ন।

হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত মজুমদারের উপস্থাপনায় সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই পবিত্র কোরআন মাজিদ থেকে তেলওয়াত করেন, সাংবাদিক মনজুর আলম পাটওয়ারী ও গীতা থেকে পাঠ করেন সুজন দাস। এরপর বক্তব্য রাখেন, শাহরাস্তির মো. নুরুজ্জামান প্রিন্স ও হাজীগঞ্জের আওলাদ হোসেন প্রধানীয়া।

এসময় প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’