শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে স্থানীয় নির্বাচনে আলোচনায় বিএনপির ত্যাগী নেতা ফারুক মিয়াজি

রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম
শাহরাস্তিতে স্থানীয় নির্বাচনে আলোচনায় বিএনপির ত্যাগী নেতা ফারুক মিয়াজি
চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভা এলাকায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছেন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ফারুক হোসেন মিয়াজি। দীর্ঘদিন দলকে ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়া এবং ব্যক্তিগত ত্যাগের কারণে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ।
বর্তমানে তিনি শাহরাস্তি পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। তাঁর প্রচারণা এবং সম্ভাবনা নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ফারুক মিয়াজি সংগঠন ধরে রাখার জন্য পরিচিত। স্থানীয় নেতারা জানাচ্ছেন, “কঠিন সময়ে সংগঠন বাঁচানো এবং নেতাদের পাশে থাকা আজ খুব কমই সম্ভব, আর ফারুক মিয়াজি ছিলেন এর অন্যতম ভরসা।”
তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানাচ্ছে, মামলা-হামলা, রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি সর্বদা সংগঠনের সঙ্গে ছিলেন। তবে পূর্ববর্তী নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপ ও অনিয়মের কারণে পরাজিত হন। তিনি নিজে কখনো বিষয়টিকে রাজনৈতিক উত্তেজনার দিকে মেলে ধরেননি।
গণসংযোগে দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলক বেশি। তিনি উন্নয়ন, পরিষেবা এবং দুর্নীতিমুক্ত পৌর প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দীর্ঘদিনের সংগঠক হিসেবে তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও সততা এবার তাকে ভিন্নভাবে তুলে ধরছে।
ফারুক হোসেন মিয়াজি গণসংযোগে বলেছেন, “আমি কোনো সংঘাত চাই না, উন্নয়ন ও সেবার রাজনীতি করতে চাই। অতীতে অবহেলা-অবমূল্যায়ন হয়েছে, তবু জনগণের ভালোবাসাই আমাকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেয়। আমি চাই শাহরাস্তি পৌরসভা একটি সুশাসিত, সুন্দর ও আধুনিক পৌরসভায় পরিণত হোক।”
নির্বাচনী মাঠে তাঁর উপস্থিতি প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়িয়েছে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন জনগণের পাশে থাকা ও দায়িত্ব থেকে সরে না যাওয়া নেতাদের এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আলহাজ্ব ফারুক হোসেন মিয়াজি এখন শাহরাস্তির রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাঁর দলীয় ত্যাগ, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে মেয়র পদে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সব মিলিয়ে তিনি সময়ের আলোচিত নেতা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’