শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজে ফল উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:১১ পিএম
চাঁদপুরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজে ফল উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

চাঁদপুরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ফল উৎসবে অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথি বৃন্দ।

চাঁদপুরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ফল উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ উৎসবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুর খানের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক রাবেয়া আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক রোটারিয়ান কাজী শাহাদাত পিএইচএফ।
বক্তব্য রাখেন  কলেজের উপাধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল হেলাল এবং ফল উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ও কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোঃ সাইফুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ বলেন, ফল উৎসব কেবল আনন্দের নয়, এটি আমাদের দেশীয় ফল সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আমাদের ফলের পুষ্টিগুণ, বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানাতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশে পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি এমন সহশিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান অর্জন ও দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের সঙ্গে অধিক সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে। তাই তাদের শিকড়, ঐতিহ্য ও দেশীয় সম্পদের সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফল উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশের মৌসুমি ও দেশীয় ফল সম্পর্কে জানতে পারছে, পাশাপাশি দলগত কাজ, উপস্থাপন দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। আমি আশা করি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ ভবিষ্যতেও এমন শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল আয়োজন অব্যাহত রাখবে এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল গ্রুপ চাঁদপুরের কো অর্ডিনেটর মাহাবুবুল হোসেন ও এসিস্টেন্ট কো অর্ডিনেটর মোঃ ইকবাল হোসেন।
উৎসবে দেশীয় ও মৌসুমি নানা ধরনের ফলের সমাহারে মোট ৭টি স্টল অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি স্টল সৃজনশীল উপস্থাপনা ও বিভিন্ন প্রজাতির মৌসুমি ফল ও আকর্ষণীয় সাজসজ্জার মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও  দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। পরে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোর প্রশংসা করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হয় ভবিষ্যতেও এ ধরনের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার জন্য।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’