শাহরাস্তি উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ মৌসুমে উফশী আমন ধান, কাঁচা মরিচ, শাকসবজি, লেবু এবং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষ ও গাছের চারার আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, শাহরাস্তির আয়োজনে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মো. সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আয়েত আলী ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত দুই নেতাও বক্তব্য প্রদান করেন এবং কৃষি খাতে সরকারের প্রণোদনা কার্যক্রমকে কৃষকের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইউনুস পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র দাস, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল হাসান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপকারভোগী কৃষক-কৃষাণীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কৃষকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষকদের দোরগোড়ায় সময়মতো উন্নতমানের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, কৃষি প্রণোদনা শুধু সহায়তা নয়, এটি কৃষকের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি কার্যকর বিনিয়োগ। কৃষকরা বিতরণকৃত উপকরণ যথাযথভাবে ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ কমবে, ফলন বৃদ্ধি পাবে এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন। তিনি কৃষকদের আধুনিক ও লাভজনক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উপজেলা কৃষি বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় উপজেলার মোট ১ হাজার ৮৮৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণীর মাঝে বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় কৃষকেরা মানসম্মত বীজ, চারা, প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার (ডিএপি ও এমওপি), জৈব সার, খুঁটি ও বালাইনাশক সুবিধা পাবেন, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় মরিচ উৎপাদন বৃদ্ধি কর্মসূচিতে ৫০ জন কৃষককে ১০ গ্রাম বীজ, ৫ কেজি ডিএপি, ৫ কেজি এমওপি এবং ১ কেজি বালাইনাশক প্রদান করা হচ্ছে। রোপা আমন ধান উৎপাদন বৃদ্ধি কর্মসূচিতে ৬০০ জন কৃষককে ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হচ্ছে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ৫১০ জন চারা উৎপাদনকারীকে ৫টি করে চারা, ১৫০ কেজি জৈব সার এবং ৫টি খুঁটি প্রদান করা হচ্ছে।
এছাড়া উফশী ও হাইব্রিড শাকসবজির বীজ বিতরণ কর্মসূচিতে ৭০০ জন কৃষককে ৭ প্যাকেট বীজ, ১৫ কেজি ডিএপি ও ১৫ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হচ্ছে। লেবুর চারা বিতরণ কর্মসূচির আওতায় ২৫ জন কৃষককে ৫টি করে চারা ও ৩০ কেজি জৈব সার দেওয়া হচ্ছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা সরকারের কৃষিবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং প্রকৃত কৃষকদের হাতে প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়ায় কৃষি বিভাগকে ধন্যবাদ জানান। সভা শেষে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ এবং কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপকারভোগী কৃষকদের হাতে বিনামূল্যে বীজ, সার, চারা ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ তুলে দেন।