শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সদর বিএনপির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
চাঁদপুর সদর বিএনপির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চাঁদপুর সদর উপজেলা শাখার ১৮ সদস্যের উপদেষ্টা মণ্ডলীর ও ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ১৫ জুলাই চাঁদপুর জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্যা সেলিম স্বাক্ষরিত এ কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়।

অনুমোদিত সদর উপজেলা বিএনপির কমিটির সভাপতি হিসেবে শাহজালাল মিলন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. হযরত আলী ঢালী।

এছাড়া কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীতে রয়েছে আলহাজ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ মাষ্টার, শেখ আব্দুর রশিদ, অ্যাড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, আজহার উদ্দিন মিয়া, মো. আবুল প্ৰধানীয়া, আলফাজ উদ্দিন আলফু, মো. ইউসুফ খান, মো. হুমায়ুন কবির হিমু, মো. বিল্লাল বেপারী, আবুল কালাম জমাদার, সরদার মো. রফিকুল ইসলাম (সাবেক চেয়ারম্যান), বোরহান খান, রফিকুল ইসলাম খোকন মল্লিক, সিরাজুল ইসলাম তালুকদার, মুক্তার হোসেন বাবুল সরকার, হাফেজ ওয়ালী উল্লাহ, মো. সিরাজ প্ৰধানীয়া ও জি এম জহিরুল ইসলাম।

এছাড়া সদর উপজেলা বিএনপির পূনাঙ্গ কমিটিতে রয়েছে সহ-সভাপতি পদে অ্যাড. জাকির হোসেন ফয়সাল, আলমগীর আলম জুয়েল, মোহাম্মদ আলী খান, আব্দুল বাতেন চৌধুরী, এ.কে.এম. ফজলুল হক সেলিম, মনিরুজ্জামান মানিক, আব্দুল মান্নান খান, আলাউদ্দিন তালুকদার, কাজী জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, আবু তাহের মিজি খোকা, মাসুদ পারভেজ বাবু পাটওয়ারী, মো. বাকের খন্দকার, মো. জাকির হোসেন তালুকদার, মো. মোশারফ হোসেন শিকদার।

Model Hospital

যুগ্ম-সাধরন সম্পাদক পদে রয়েছে মো. আখতার হোসেন সাগর, গাজী মো. মাসুদ রায়হান, পীরজাদা বরকত উল্লাহ খান, অ্যাড. আলম খান মঞ্জু, অ্যাড. মাহমুদ হাসান কবির, অ্যাড. শিরিন আক্তার সুপ্তা।

কোষাধ্যক্ষ মাও. জসিম উদ্দিন পাটওয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. তাফাজ্জল হোসেন, অ্যাড. জসিম মেহেদী, দপ্তর সম্পাদক শরীফ আহমেদ খান, প্রচার সম্পাদক অ্যাড. কাইয়ুম মোল্লা, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মো. ইউসুফ গাজী, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মো. মোক্তার হোসেন গাজী, মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আবুল হোসেন মিজি, যুব বিষয়ক সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম নজু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আবু হানিফ কাকন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শাহিন আক্তার শানু, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক জিসান আহমেদ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক চন্দন কুমার দত্ত, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. নজরুল আহসান, প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বপন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক সেলিম পাঠোয়ারী বাবুল, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল্লাহ মর্জি, ক্ষুদ্র ঋণ ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক কাজী মো. আলাউদ্দিন, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান পিটার, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন খান, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক মো. আমির হোসেন গাজী, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাও. নুরুল ইসলাম, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এস.এ. ইউসুফ মিন্টু মিজি, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক স্বপন মাহমুদ, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. সেলিম মিরাজী, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. রেহেনা ইব্রাহিম (কচি), পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির সরদার, সহ-কোষাধ্যক্ষ কাজী আলী আশ্রাফ রিপন, সহ-সাংগঠনিক বিষয়ক সম্পাদক শাহজেলাল সরকার মিলন, মাহবুবুর রহমান মেম্বার, অ্যাড. সালমা বেগম, সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক আঃ মান্নান খান কাজল, সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক পীরজাদা জুনায়েদ উল্লাহ খান, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাসরিন আক্তার, সহ-দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদা আক্তার, সহ-প্রচার সম্পাদক জয়নাল মাতাব্বর, সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পারভেজ খান।

কার্যকরী সদস্য জসিম উদ্দিন খান বাবুল, দেওয়ান মো. শফিকুজ্জামান, খলিলুর রহমান গাজী, ফেয়াদৌস আলম বাবু, অ্যাড. জহির উদ্দিন বাবর, অ্যাড. শামসুল ইসলাম মটু, অ্যাড. মুনিরা চৌধুরী, অ্যাড. কৌহিনুর রশিদ, এ.টি.এম. আব্দুল মতিন (তাহের), মানিকুর রহমান মানিক, এনায়েত উল্লাহ খোকন, অ্যাড. রফিকুল হাসান রিপন, মো. সরওয়ার গাজী, আবুল কালাম আজাদ, সোলায়মান ঢালী, ইমাম হোসেন গাজী, শেখ মোহাম্মদ হাবিব, জাকির মৃধা, জয়নাল আবেদীন বেপারী, সোলাইমান ভুট্টু, আব্দুর রাজ্জাক, হাজী ওসমান গাজী, ডা. তালিম হোসেন পাঠান, মোফাজ্জল হোসেন মফু মেম্বার, চাঁন মিয়া চকিদার, মো. সুমন ভূঁইয়া, মো. নাছির খান, তালহা ফারুকী সঞ্জয়, জাহাঙ্গীর হোসেন পাটওয়ারী, সাইফুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন মিজি, দ্বীন মোহাম্মদ, মো. খাইরুল বাশার, মো. শাহাদাত মিজি, মো. খোরশেদ আলম বাবুল মোল্লা, মো. শহীদ বেপারী, মো. আবুল হোসেন বেপারী, আবুল হাশেম চোকদার, মো. হারুনুর রশীদ, খাদিজা আক্তার ও জান্নাত আক্তার।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’