শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সদরের ৫১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৮১ জন, পাসের হার ৭২.০৬ শতাংশ

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৫ এম
চাঁদপুর সদরের ৫১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৮১ জন, পাসের হার ৭২.০৬ শতাংশ

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (১০ জুলাই) দুপুর ২টায় সারাদেশের সঙ্গে চাঁদপুরেও এ ফল প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ১০ এপ্রিল এবং শেষ হয় ১৩ মে। চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৪ হাজার ৬০৬ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৩ হাজার ২৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৮১ জন। উপজেলায় মোট পাসের হার ৭২.০৬ শতাংশ। চাঁদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সদর উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এ ফলাফল নিশ্চিত করেছেন।

চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর ২৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ২০৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬ জন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৮৯.৬৬ শতাংশ। মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ২২৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৪ জন। পাসের হার ৯৬.৬৭ শতাংশ। আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৮৩৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। কৃতকার্য হয়েছে ৭৮৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১৯ জন। পাসের হার ৯৩.৮৯ শতাংশ।

পুরানবাজার এমএইচ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ১১৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। পাসের হার ৭৬.৭৭ শতাংশ।গনি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। কৃতকার্য হয়েছে ৮১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৬৮.৬৪ শতাংশ। চাঁদপুর পৌর শহীদ জাভেদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ১৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাসের হার ৪৮.৪৮ শতাংশ। আক্কাছ আলী রেলওয়ে একাডেমি থেকে ৫৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৩৪ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ৫৯.৬৫ শতাংশ। আমিরাবাদ গোলাম কিবরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৫০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাসের হার ৭৫.৫৬ শতাংশ।

বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৩৭৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ১৮৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন। পাসের হার ৫০.১৩ শতাংশ। বাগাদী গনি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৬০ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ৪৯.৫৯ শতাংশ। বহরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৭২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাসের হার ৫৯.৫০ শতাংশ। বালিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৯৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৬২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। পাসের হার ৬৪.৫৮ শতাংশ।

Model Hospital

চাঁদপুর নুরিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৩৩ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ৬৫.৩৫ শতাংশ। চান্দ্রাবাজার ইয়াকুব আলী স্মারক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৮৯ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ৬৪.৪৯ শতাংশ। ছোটসুন্দর আমজাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৯০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৭১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাসের হার ৭৮.৮৯ শতাংশ।

ডাসাদী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৭ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ২৫ শতাংশ। ফরক্কাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৪৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। পাসের হার ৫৫.৫৬ শতাংশ। হাফেজ মাহমুদা পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৪ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ২৬.৬৭ শতাংশ।

হামানকদ্দি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ১৪ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ৫০ শতাংশ। হামানকর্দি পল্লীমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৪৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। পাসের হার ৮৩ শতাংশ। হরিণা চালিতাতলী এডওয়ার্ড ইনস্টিটিউশন থেকে ৫০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ২২ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ৪৪ শতাংশ। জনতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৩১ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ৪৬.৯৭ শতাংশ।

জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ১২ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ২৬.০৯ শতাংশ। কামরাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ১৭ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ৫৩.১৩ শতাংশ। খেরুদিয়া দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৫০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৪৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাসের হার ৮৮ শতাংশ।

কৃষ্ণপুর জোহরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৩৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৫৭.৩৮ শতাংশ। লেডি দেহলভী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৪১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাসের হার ৬৫.০৮ শতাংশ। লেডি প্রতিমা মিত্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ১২৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন। পাসের হার ৮৮.১১ শতাংশ।

লালপুর বালুধুম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৪৭ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ৫৪ শতাংশ। এম এম নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৭৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ। মহামায়া হানাফিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৩৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। পাসের হার ৬৪.৯১ শতাংশ।

মৈশাদি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ২০ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ৬৯ শতাংশ। মনিহার জিএম ফজলুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ১৩ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ৭৬.৪৭ শতাংশ। নানুপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৩৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৫৭.৮৯ শতাংশ।

উত্তর সাহাতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ২৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। পাসের হার ৫১.১১ শতাংশ। পশ্চিম সকদী দারোগা বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ২৫ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ৫৫.৫৬ শতাংশ। পীর মহসিন উদ্দিন পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ২৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৭৯.৩১ শতাংশ।

পুরানবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ২৩ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ৫৮.৯৭ শতাংশ। রঘুনাথপুর হাজী এ করিম খান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৪৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাসের হার ৬৯.৭০ শতাংশ। রাজরাজেশ্বর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ১৪ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ৯৩.৩৩ শতাংশ।

সফরমালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৩৯ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ৪৪.৩২ শতাংশ। সেনগাঁও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৭ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ৫৩.৮৫ শতাংশ। সাহাতলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৫ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ২১.৭৪ শতাংশ।

ষোলঘর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ২৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৬২.১৬ শতাংশ। তরপুরচণ্ডী জিএম ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৫৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৬৯.০৫ শতাংশ। দ্বারকানাথ ডিএন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৩৩ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ। পাসের হার ৭৫ শতাংশ।

গভর্নমেন্ট টেকনিক্যাল হাই স্কুল থেকে ১০৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৬৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাসের হার ৬৩.১১ শতাংশ। ড্যাফোডিল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৭০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৭০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ জন। পাসের হার শতভাগ। বীর প্রতীক মমিন উল্লাহ পাটওয়ারী একাডেমি থেকে ৬৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৪৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩। পাসের হার ৬৩.২৪ শতাংশ। কালেক্টরেট স্কুল থেকে ১৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ১৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। পাসের হার ৮৭.৫০ শতাংশ।

এছাড়াও ভোকেশনাল হতে উপজেলার চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ থেকে ১৪৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৭৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩। পাসের হার ৫২.৪১ শতাংশ। ফরক্কাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ১৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাসের হার ৩৫ শতাংশ। ষোলঘর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ২৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৪৯.০৯ শতাংশ এবং কামরাঙা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৭ জন। জিপিএ-৫ পায়নি কেউ পাসের হার ৮৭ শতাংশ। সর্বমোট পাশের হার ৫১.২২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’