শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় যুবকদের মাঝে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাহার মজুমদারের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৫ পিএম
কচুয়ায় যুবকদের মাঝে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাহার মজুমদারের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

কচুয়ায় কাদলা ইউনিয়নে বিভিন্ন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন, আব্দুল কাহার আহমেদ মজুমদার।

কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের বিভিন্ন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী ও যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার জন্য তরুণ যুবকদের মাঝে ফুটবল ও ভলিবলসহ ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাহার আহমেদ মজুমদার। শুক্রবার সকালে তার নিজস্ব অর্থায়নে কাদলা আল আমিন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা, কাদলা সূফি ছদর উদ্দিন (রঃ) এতিমখানা,রাহমাতাল্লিল আলামিন নূরাণী হাফেজিয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন হাফিজিয়া ও এতিমখানা মাদ্রাসা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুটবল, ভলিবলসহ ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এছাড়াও একই দিনে তিনি বর্তমান যুব সমাজকে মাদক থেকে ধরে রাখার জন্য কাদলা দরবেশগঞ্জ খেলা ঘরসহ  খেলার প্রেমিকদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করেন।
এসময় কাদলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা মাসুম তপাদার, ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোঃ মহসিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানায়, ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাহার আহমেদ মজুমদার এটা একটি ভালো উদ্যোগ। খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের সুস্থ জীবনধারা গড়ে তোলার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস  বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও তরুণ সমাজ এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সামাজিক এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর‌ইগাঁও যুব উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল কাহার আহমেদ মজুমদার বলেন, মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের জন্য খেলাধুলা বিকল্প নেই। আমি একদিন একটি এতিমখানা মাদ্রাসায় এতিমদের খোঁজখবর নেয়ার জন্য গিয়েছিলাম, ওই মাদ্রাসা দেখি কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ছোট বোতল দিয়ে ফুটবল বানিয়ে খেলাধুলা করছেন। এটা দেখে আমার কাছে অনেকটা খারাপ লেগেছে‌।
যেকোনো সরকার  বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী দেওয়া হয়। বিশেষ করে বেসরকারি হাফিজিয়া ও এতিমখানা মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মাঝে কোন শিক্ষা সামগ্রী আসেনি। আমার নিজ উদ্যোগে এ শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সামগ্রী দিয়েছি। সবার সাথে মিলিয়ে আনন্দের মাধ্যমে খেলাধুলা করতে পারে।
তিনি আরো বলেন“খেলাধুলা তরুণ সমাজকে কেবল শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে না, বরং মাদক ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’