শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজের পক্ষ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫প্রাপ্ত ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধণা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজের পক্ষ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫প্রাপ্ত ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধণা

শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজের পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫প্রাপ্ত ও উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধণা ক্রেস্ট প্রদান করেন কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এবং চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীসহ অতিথিবৃন্দ৷

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজের পক্ষ থেকে উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৬সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ও উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬আগস্ট (রবিবার) সকাল ১০টায় জিলানী চিশতী কলেজের সভাকক্ষে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: কামরুল হাসান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এবং চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কলেজ গভনিং বডির চেয়ারম্যান সোহেল রুশদী বলেন, ১৯৭০ সালে আমার দাদা শিক্ষাবিদ  মরহুম মাওলানা এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী সাহেব অত্র জিলানী চিশতী কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন।এটি সদরের প্রথম বেসরকারী কলেজ। এ কলেজ থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত। বিশেষ করে নারী শিক্ষা উন্নয়নে এ কলেজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখান থেকে লেখাপড়া করে অনেকেই  ইউনিভাসিটি ও মেডিকেলে ভর্তি হচ্ছে।
এ কলেজে ধারাবাহিক ভাবে ভালো ফলাফল করে আসছে। তোমরা যারা ২০২৬ সালে এ+ পেয়েছো এবং যারা উত্তীর্ণ হয়েছো সকলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। একজন শিক্ষার্থী দূরে গিয়ে পড়াশুনা করতে সময় ও অর্থের অপচয় হয়। তাই কাছের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। আমি আশারাখি তোমরা জিলানী চিশতী  কলেজে ভর্তি হবে। এ কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সব দিক দিয়ে নিরাপদ। আপনারা অভিভাবকরা আপনাদের সন্তানদের  এ কলেজে ভর্তি করাতে পারেন। আমরা গভনিং বডি পক্ষ থেকে সকল সুযোগ -সুবিধা নিশ্চিত করবো। কলেজে লেখাপড়ার মান অনেক ভালো। শিক্ষকরা আন্তরিকতার সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
তিনি বলেন, আমার পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য সকল ধরনের সহযোগিতা থাকবে। তোমরা এ কলেজে ভর্তি হলে তোমাদের সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা আমি নিশ্চিত করর। আমরা সবাই মিলে সম্মিলিত ভাবে চেষ্টা করছি, শিক্ষার মান বাড়াতে। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে হবে অভিভাবকদের। যদি কোন বিষয় ক্লাশ না হয়, তা আমাদের জানাবেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফলাফল ভালো হবে।  তোমাদের উপবৃত্তিসহ সকল ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে  মিড-ডে চালু করছে,শিক্ষার খাতে বাজেট বাড়িয়েছেন,নানা পরিকল্পনা গ্রহন করেছেন। চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ মানিক মহোদয় চাঁদপুর শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক  কাজ শুরু করছেন।  শিক্ষার উন্নয়নে সবধরনের সহযোগিতা করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
কলেজের সহকারি অধ্যাপক মো: জহিরুল ইসলাম খান মুরাদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোহসিন উদ্দিন, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, কলেজের সহকারি অধ্যাপক মাওলানা ছোহাইল আহমেদ চিশতী, ফারজানা আক্তার, মো: জিয়াউর রহমান, মো: হানিফ মিয়া, মো: হাবিবুর রহমান, মো: মানিক মিয়া, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোসা: রুবিনা আক্তার, জিলানী চিশতী কলেজের প্রভাষক মো: মাহবুবুর রহমান, মো: শাহাদাত হোসেন, ফরিদা ইয়াসমিন, মনোয়ারা আক্তার, সুমা রানী পাল, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক দীপঙ্কর দে, কলেজের সহকারি শিক্ষক নাছরীন আক্তার, অফিস ইনচার্জ মো: রানা সরকার, অফিস সহকারি মো: মেহেদী হাসান, অভিভাবক মোরশেদ তপদার, রেহানা পারভীন, কামরুন্নাহার, রাবেয়া বসরী, সামসুন নাহার।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলেজের দ্বাদশ শ্রেনির ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থী তাবাসসুম নাবা, এসএসসি পরীক্ষায় এ+ প্রাপ্তদের মধ্যে থেকে বক্তব্য রাখেন সাবিহা আনহা, মারজিয়া ইসলাম লামিয়া, রুবাইয়া বিদুন, মেহেরুন নেছা।
অনুষ্ঠানে উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৬সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৪ জন ও উত্তীর্ণ কৃতি সকল শিক্ষার্থীদের কলেজের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ক্রেস্ট প্রদান করেন কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি সোহেল রুশদীসহ অতিথিবৃন্দ।
শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কলেজের সহকারি অধ্যাপক মাওলানা ছোহাইল আহমাদ চিশতী। সভাপতির বত্তব্য রাখেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: কামরুল হাসান। তিনি বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।
এদিকে, উক্ত অনুষ্ঠান শেষে পাশ্ববর্তী জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভা কক্ষে ২০২৬সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময়, পর্যালোচনা সভা ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী। উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোহসিন উদ্দিন সহ শিক্ষকবৃন্দগণ৷

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’