শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে চর্যাপদ একাডেমির সাহিত্য উৎসব

দেশের সাত গুণিব্যক্তির হাতে উঠলো দোনাগাজী পদক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
দেশের সাত গুণিব্যক্তির হাতে উঠলো দোনাগাজী পদক

চর্যাপদ একাডেমির আয়োজনে সাহিত্য উৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর শহরস্থ সাংবাদিক ক্লাবের রেডরোজ হলে বেলা ১১টায় ফিতা কেটে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক, বরেণ্য নাট্য গবেষক মোস্তফা কামাল যাত্রা। তিনি বলেন, দোনাগাজীকে থিয়েটারে আনা যায় কিনা সেটা এখন ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি মনে করি, দোনাগাজীকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধারার উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক পরিচালক, দেশবরেণ্য কবি নাসির আহমেদ। তিনি বলেন, চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি প্রদত্ত পুরস্কারগুলো সম্পর্কে আমি অনেক আগে থেকেই অবগত। এই পুরস্কারের সুনাম আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি মনে করি, এ পুরস্কার এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারের একটি হিসেবে গণ্য করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমি চার বার স্টোক করেছি। যার ফলে ঢাকার বাইরের কোনো অনুষ্ঠানে যেতে চাই না। কিন্তু চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির কথা শোনার পর না এসে থাকতে পারলাম না।

Model Hospital

সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন জলছবি সম্পাদক কবি জামসেদ ওয়াজেদ, জলধি সম্পাদক কথাসাহিত্যিক নাহিদা আশরাফী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিজয়ী-এর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান এবং ইয়ূথ ফোরাম বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর আলেয়া বেগম লাকী, কবি আসাদুল্লা কাহাফ।

সাহিত্য উৎসবে দেশের ৭ বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয় চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি প্রদত্ত দোনাগাজী পদক ২০২৫ ও ২০২৬। ২০২৫-এ কবিতায় সোহরাব পাশা, কথাসাহিত্যে ইশরাত তানিয়া, শিশুসাহিত্যে স. ম. শামসুল আলম, সংগীতে রনক রায়হান; ২০২৬-এ কবিতায় শিবলী মোকতাদির, চারুকলায় অমল সেনগুপ্ত এবং লোক-গবেষণায় সৈয়দা আঁখি হক পান দোনাগাজী পদক।

একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপার সভাপতিত্বে, মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি ও জুড়িবোর্ডের সদস্য সচিব শিউলী মজুমদারের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব দিলীপ ঘোষ।

শংসাপত্র পাঠ করেন জয়ন্তী ভৌমিক, কামরুন্নাহার বিউটি, দুখাই মুহাম্মাদ, মিজানুর রহমান স্বপন, রাসেল ইব্রাহীম ও ফেরারী প্রিন্স। কবিতা আবৃত্তি করেন কবিতা বাচিকশিল্পী আবু বকর সিদ্দিক, দিপান্বিতা দাস ও মৃন্ময়ী মজুমদার।

বেলাল শেখের বাঁশি ও বাচিকশিল্পীদের আবৃত্তিতে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
একাডেমির মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি বলেন, ২০১৯ সাল থেকে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি নিয়মিত এ পদক দেওয়া হচ্ছে। এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলার লেখক ও শিল্পীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে চাঁদপুর শহর। অনুষ্ঠানে লেখক, শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজকর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

প্রশাসনের দৃষ্টি আকষর্ণ করে তিনি বলেন, মধ্যযুগের কবি দোনাগাজী ছিলেন চাঁদপুরের কৃতিসন্তান। তাঁর নামে চাঁদপুরে স্থাপনা নির্মাণ করে রাষ্টীয়ভাবে দোনাগাজীর স্মৃতি ধরে রাখার দাবি জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে দোনাগাজীর বংশধর নাসিমা খাতুন লাকীসহ অন্যান্যদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয় এবং উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক আইরিন সুলতানা লিমার তত্ত্বাবধানে একটি চমৎকার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’