শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে তিন মণ আলুর দামে এক কেজি ইলিশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১০ পিএম
চাঁদপুরে তিন মণ আলুর দামে এক কেজি ইলিশ

ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু নদীতে নেই কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, বাজারেও নেই স্বস্তি। চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মাছের আড়ত ও বাজারগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ।

এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা। অথচ একই টাকায় কেনা যাচ্ছে প্রায় আড়াই থেকে তিন মণ আলু। ফলে জাতীয় মাছ ইলিশ এখন সাধারণ মানুষের খাবারের তালিকায় যেন বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মতলব উত্তর উপজেলার আমিরাবাদ, একলাশপুর, বাবুবাজার মৎস্য আড়তে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য মাছের তুলনায় ইলিশের দাম বেশ চড়া। বড় আকারের ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় দামও বেশি। ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশও বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে।

আমিরাবাদ আড়তের ব্যবসায়ী জুয়েলমীর বলছেন, নদী থেকে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়াই দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। আড়তে মাছের পরিমাণ কম থাকলেও ক্রেতাদের চাহিদা রয়েছে। ফলে কম সরবরাহ ও বেশি চাহিদার প্রভাব পড়ছে বাজারদরে।

Model Hospital

শুধু বাজার নয়, সংকটের চিত্র আরও স্পষ্ট নদীতে। জেলেরা বলছেন, আগের মতো জালে ইলিশ ধরা পড়ছে না। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীতে অবস্থান করেও জালে আশানুরূপ মাছ উঠছে না। অথচ মাছ ধরতে নৌকার জ্বালানি, শ্রমিক, বরফ ও খাবারের পেছনে প্রতিদিনই বাড়ছে খরচ।

ষাটনল জেলে পাড়ার জেলে টিটু বর্মন, লক্ষ্মণ বর্মন বলেন, নদীতে মাছ না থাকলে আমাদের কষ্টটা কেউ বোঝে না। জাল ফেলতে যে খরচ হয়, অনেক সময় সেই টাকাটাও ওঠে না। মাছ পেলে সংসার চলে, না পেলে ধারদেনা করতে হয়। কিস্তি আর মহাজনদের ঋণের টাকা ঠিক মতন পরিশোধ করতে পারতাছি না। ছেলে সন্তানদের নিয়ে খুব অভাবে আছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে ইলিশের দাম এতটাই বেড়েছে যে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের পক্ষেই এখন ইলিশ কেনা কঠিন। আনোয়ার হাবিব নামে ক্রেতা বলেন, এক কেজি ইলিশের দাম যদি আড়াই হাজার টাকার ওপরে হয়, তাহলে পরিবারে ইলিশ খাওয়ানো কঠিন। একই টাকায় অনেক কেজি আলু বা অন্য মাছ কেনা যায়।

মাছ ব্যবসায়ীদের মতে, নদীতে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেই বাজারে দাম কমতে পারে। তবে কখন সেই সরবরাহ বাড়বে, তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না তারা।

মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলছেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণ, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বন্ধ এবং অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নদীতে ইলিশের বিচরণ ও সরবরাহ বাড়লে বাজারে দামও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শাহরাস্তি ইউথ ফোরামের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

শাহরাস্তি থানা মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে : ওসি মীর মাহবুবুর রহমান

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৫ এম
শাহরাস্তি থানা মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে : ওসি মীর মাহবুবুর রহমান

‘সুস্থ দেহে সুন্দর মন, গড়ে তোলে ক্রীড়াঙ্গন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছে শাহরাস্তি ইউথ ফোরাম।

উপজেলার কুলশী বটতলায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় তরুণ ও যুবকদের হাতে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। শাহরাস্তি ইউথ ফোরামের বাস্তবায়নে এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোঃ নুরুজ্জামান ভূঁইয়া প্রিন্সের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহরাস্তি ইউথ ফোরামের সভাপতি ইঞ্জিঃ মোঃ ইমতিয়াজ সিদ্দিকী তোহা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন স্বপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান।

তিনি তার বক্তব্য বলেন, প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেয়। তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত খেলাধুলা করলে শরীর ও মন সুস্থ থাকে, শৃঙ্খলাবোধ তৈরি হয় এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়।

Model Hospital

অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে আরও সক্রিয় হতে হবে। শাহরাস্তি থানা মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের জন্য ইতিবাচক ও সৃজনশীল পরিবেশ তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগকে আমরা সবসময় উৎসাহিত করব।বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিকল্প নাই।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহরাস্তি মডেল থানার তদন্ত ওসি রফিকুল ইসলাম, শাহরাস্তি পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মাসুদ রানা, শাহরাস্তি পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন, টামটা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নোমান হোসেন আখন্দ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব হাসান বাবলু।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি ইউথ ফোরামের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন পাটওয়ারী, টামটা দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল মোমেন শিকদার এবং মেহের ডিগ্রি কলেজের সাবেক প্রভাষক আরিফুর রহমান।

এ সময় শাহরাস্তি ইউথ ফোরামের সহ-সভাপতি মোঃ বোরহান উদ্দিন মিয়াজি, মাওলানা কামরুল হাসান বাবু, ফিরোজ আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল মোহন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক আরফিন রবিন, কার্যকরী সদস্য শাখাওয়াত হোসেন হৃদয় ও রিশাদ ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি হয়। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।