রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ১৯ পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী হস্তান্তর

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৬ পিএম
শাহরাস্তিতে ১৯ পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী হস্তান্তর
শারদীয় দুর্গাপূজা ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য লায়ন প্রকৌশলী মমিনুল হকের পক্ষ থেকে শাহরাস্তি উপজেলার ১৯টি পূজামণ্ডপে সৌজন্য উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স রুমে পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের হাতে এসব সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে সরকারি সহায়তা হিসেবে  ৬০০ কেজি চাল  নগদ অর্থ দেওয়া হচ্ছে এবং শাড়ি উপহারেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউএনও  ও পৌরপ্রশাসকের তরফ থেকে ৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন  বলেন, উৎসব নির্বিঘ্ন ও নিরাপদে উদযাপনে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। পূজামণ্ডপের নেতা ও ভক্তদের যেকোনো অভিযোগ ও সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর জোর দেন এবং পূজা উদযাপনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এর আগে ১২ অক্টোবর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রস্তুতিমূলক সভায় জানানো হয়, প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নিয়মিত টহল ও ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতিসহ নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। ডেঙ্গু মৌসুমে স্বাস্থ্যসচেতনতার সঙ্গে উৎসব পালনেরও আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া এমপি মমিনুল হকও সম্প্রতি মণ্ডপ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ১৯টি মণ্ডপে পূজা হবে। এর মধ্যে পৌর এলাকায় ৮টি এবং ১০টি ইউনিয়নে ১০টি। মণ্ডপগুলোর মধ্যে রয়েছে মেহের কালীবাড়ি, পালপাড়া, নিজমেহার দক্ষিণপাড়া, ছিখটিয়া ঠাকুরবাড়ি, ঘোষপাড়া, পুরোহিতবাড়ি, সাহাপুর চৌধুরীবাড়ি, নাওড়া ঠাকুরবাড়ি, কুলশী ঠাকুরবাড়ি, নাহারা ভৌমিকবাড়ি, জগবন্ধু সাধুর বাড়ি, পালবাড়ি, প্রসন্নপুর, খিতারপাড়, নুনিয়া দত্তবাড়ি, সূচীপাড়া মজুমদারবাড়ি, ছিখটিয়া কবিরাজবাড়ি ও বরুলিয়া পঁতিচো সর্বজনীন মণ্ডপ।
উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবু নিখিল চন্দ্র মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক অমৃত মজুমদার টুটনসহ বিভিন্ন মণ্ডপের নেতারা, পুরোহিত ও ভক্তরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মতলব দক্ষিণ উপজেলার এক মা ও তার ছেলে। ধর্ম পরিবর্তনের পর ইসলামি নাম ধারণ করে তারা জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সম্প্রতি খায়রুন নাহার নামের ওই নারী তার নতুন ধর্মান্তরিত ছেলেকে নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করাতে আসেন। এ সময় তাদের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন মাসুদ বেপারী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

জানা গেছে, ইসলাম গ্রহণের আগে ওই নারীর নাম ছিলো সুমি সরকার এবং তার ছেলের নাম ছিলো রবিন সরকার। ধর্মান্তরের পর এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে মায়ের নাম রাখা হয়েছে খায়রুন নাহার এবং ছেলের নাম আব্দুল্লাহ। খায়রুন নাহার জানান, আগে তারা পরিবারের সঙ্গে ঢাকার ডেমরা এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের স্থায়ী ঠিকানা মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। বর্তমানে স্বামী থেকে আলাদা হয়ে তিনি সন্তানকে নিয়ে চাঁদপুরে বসবাস করছেন।

নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে খায়রুন নাহার বলেন, “ইসলামের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও পবিত্রতার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই আমি স্বেচ্ছায় এই ধর্ম গ্রহণ করেছি। আমার ছেলেও নিজের ইচ্ছায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছে।” নতুন পরিচয়ে সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে নতুন জীবন শুরু করা এই মা-ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সমাজসেবী মাসুদ বেপারী। তিনি আব্দুল্লাহর চিকিৎসার খরচ বহনসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহকে আমি নিজের ভাইয়ের মতো এবং খায়রুন নাহারকে মায়ের মতো সম্মান করি। বিপদের দিনে তাদের পাশে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।”

Model Hospital

ধর্মান্তরের পর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, আবাসন ও আর্থিক অসচ্ছলতাজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এই মা-ছেলে। একটি নতুন ও অনিশ্চিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।