রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

মতলবে যুব ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
মতলবে যুব ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ
মানবিক দায়িত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান যুব ঐক্য পরিষদ মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার উদ্যোগে অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী অর্ধশত সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী পুরুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
​১৮ অক্টোবর দুপুরে মতলব উপজেলা যুব ঐক্য পরিষদের আয়োজনে শ্রী শ্রী কালীবাড়ী মন্দিরে এই বস্ত্র বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান যুব ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সাংবাদিক অমরেশ দত্ত জয় বলেন, সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিবর্গের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব হলো সুবিধাবঞ্চিত ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে সাধ্যানুযায়ী এগিয়ে যাওয়া। সামাজিক বৈষম্য হ্রাস করতে অর্থাৎ সমাজে ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনতে এবং উৎসব বা দুর্যোগের মুহূর্তে সবার মুখে হাসি ফোটাতে সেক্ষেত্রে বস্ত্র বিতরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটা সবার মাঝে আনন্দ বা উৎসবের ছোঁয়া ছড়িয়ে দিতে কার্যকরি পদক্ষেপ। মতলব দক্ষিণে যুব ঐক্য পরিষদের এমন চমৎকার আয়োজনে এসে আমি সত্যিই খুবই অভিভূত। নতুন বস্ত্র পেয়ে এখানে সবার মুখের হাসি দেখে আমার দারুণ লেগেছে।
তিনি আরও বলেন, এখানে যারা বস্ত্র পেলেন। সবাই সমাজের প্রকৃত অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী মানুষ হিসেবে পাওয়ার যোগ্য। সবার উদ্দ্যেশ্যে একটা কথা বলতে চাই, তা হলো নিজেদের অধিকার আদায়ে সবাই যার যার অবস্থান থেকে সংগঠনমুখী হউন। এতে করে সবাই এক প্লাটফর্মে এসে নিজেদের দাবীগুলো সরকার, প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট স্থানে উত্থাপিত করতে সুবিধা হয়। সেক্ষেত্রে যুব ঐক্য পরিষদ একটি শক্তিশালী সংগঠন। আপনারা সবাই আমাদের জন্য আশির্বাদ করবেন যাতে করে আমরা ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে আপনার জন্য মানবিক সেবা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মতলব দক্ষিণ উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান যুব ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সমীর ভট্টাচার্য্য বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমরা ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে শাড়ি লুঙ্গি নিয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতে যেন একইভাবে আপনাদের পাশে থাকতে পারি, সেজন্য সবাই আশীর্বাদ করবেন। যারা আমাদের এই আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি সংগঠনের পক্ষ থেকে সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে শারদীয় দূর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
মতলব দক্ষিণ যুব ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব চন্দন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা যুব ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উত্তম সরকার, মতলব প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক মোশারফ হোসেন তালুকদার, মতলব পৌর যুব ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সঞ্জয় সাহা, যুগ্ম আহ্বায়ক প্রান্ত সাহা, সুষন ভট্টাচার্য্য, উপাদী উত্তর ইউনিয়ন যুব ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সুখরঞ্জন কর্মকার।
​এ সময় উপস্থিত ছিলেন মতলব কালীবাড়ী মন্দির কমিটির সভাপতি শ্যামল ভট্টাচার্য্য, সাধারণ সম্পাদক সুজন ভট্টাচার্য্য, দৈনিক কালবেলার মতলব দক্ষিণ প্রতিনিধি মো. আল আমিন ভূঁইয়া,মতলব উপজেলা যুব ঐক্য পরিষদের সদস্য সুমন সরকার, মতলবের সাংবাদিক আজিজুল হক দিপু, সফিকুল ইসলাম রিংকু, সাইফুল ইসলাম সবুজসহ যুব ঐক্য পরিষদের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মতলব দক্ষিণ উপজেলার এক মা ও তার ছেলে। ধর্ম পরিবর্তনের পর ইসলামি নাম ধারণ করে তারা জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সম্প্রতি খায়রুন নাহার নামের ওই নারী তার নতুন ধর্মান্তরিত ছেলেকে নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করাতে আসেন। এ সময় তাদের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন মাসুদ বেপারী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

জানা গেছে, ইসলাম গ্রহণের আগে ওই নারীর নাম ছিলো সুমি সরকার এবং তার ছেলের নাম ছিলো রবিন সরকার। ধর্মান্তরের পর এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে মায়ের নাম রাখা হয়েছে খায়রুন নাহার এবং ছেলের নাম আব্দুল্লাহ। খায়রুন নাহার জানান, আগে তারা পরিবারের সঙ্গে ঢাকার ডেমরা এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের স্থায়ী ঠিকানা মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। বর্তমানে স্বামী থেকে আলাদা হয়ে তিনি সন্তানকে নিয়ে চাঁদপুরে বসবাস করছেন।

নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে খায়রুন নাহার বলেন, “ইসলামের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও পবিত্রতার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই আমি স্বেচ্ছায় এই ধর্ম গ্রহণ করেছি। আমার ছেলেও নিজের ইচ্ছায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছে।” নতুন পরিচয়ে সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে নতুন জীবন শুরু করা এই মা-ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সমাজসেবী মাসুদ বেপারী। তিনি আব্দুল্লাহর চিকিৎসার খরচ বহনসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহকে আমি নিজের ভাইয়ের মতো এবং খায়রুন নাহারকে মায়ের মতো সম্মান করি। বিপদের দিনে তাদের পাশে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।”

Model Hospital

ধর্মান্তরের পর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, আবাসন ও আর্থিক অসচ্ছলতাজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এই মা-ছেলে। একটি নতুন ও অনিশ্চিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।