রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল সাদিয়া ও সামিরার

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০২ পিএম
কচুয়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল সাদিয়া ও সামিরার

চাঁদপুরের কচুয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে সাদিয়া (১০) ও সামিরা (৮) নামে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর উত্তর কচুয়া ইউনিয়নের উজানী গ্রামের সিকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাদিয়া ওই গ্রামের রহিম হোসেনের মেয়ে। অপর শিশু সামিরা চট্টগ্রাম থেকে পূজার ছুটিতে দাদার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। সে বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে ১টার দিকে শিশু দুটি বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করছিল। এ সময় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে তারা বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর শিশু দুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে পুকুরের পানিতে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাদের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জহিরুল ইসলাম শিশু দুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

Model Hospital

এ ঘটনায় নিহত দুই শিশুর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম আকাশ বলেন,  পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মতলব দক্ষিণ উপজেলার এক মা ও তার ছেলে। ধর্ম পরিবর্তনের পর ইসলামি নাম ধারণ করে তারা জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সম্প্রতি খায়রুন নাহার নামের ওই নারী তার নতুন ধর্মান্তরিত ছেলেকে নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করাতে আসেন। এ সময় তাদের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন মাসুদ বেপারী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

জানা গেছে, ইসলাম গ্রহণের আগে ওই নারীর নাম ছিলো সুমি সরকার এবং তার ছেলের নাম ছিলো রবিন সরকার। ধর্মান্তরের পর এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে মায়ের নাম রাখা হয়েছে খায়রুন নাহার এবং ছেলের নাম আব্দুল্লাহ। খায়রুন নাহার জানান, আগে তারা পরিবারের সঙ্গে ঢাকার ডেমরা এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের স্থায়ী ঠিকানা মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। বর্তমানে স্বামী থেকে আলাদা হয়ে তিনি সন্তানকে নিয়ে চাঁদপুরে বসবাস করছেন।

নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে খায়রুন নাহার বলেন, “ইসলামের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও পবিত্রতার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই আমি স্বেচ্ছায় এই ধর্ম গ্রহণ করেছি। আমার ছেলেও নিজের ইচ্ছায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছে।” নতুন পরিচয়ে সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে নতুন জীবন শুরু করা এই মা-ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সমাজসেবী মাসুদ বেপারী। তিনি আব্দুল্লাহর চিকিৎসার খরচ বহনসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহকে আমি নিজের ভাইয়ের মতো এবং খায়রুন নাহারকে মায়ের মতো সম্মান করি। বিপদের দিনে তাদের পাশে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।”

Model Hospital

ধর্মান্তরের পর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, আবাসন ও আর্থিক অসচ্ছলতাজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এই মা-ছেলে। একটি নতুন ও অনিশ্চিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।