রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

শারদীয় দুর্গাপূজায় হরিজন কলোনির পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে শামসুল আলম সূর্য

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
শারদীয় দুর্গাপূজায় হরিজন কলোনির পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে শামসুল আলম সূর্য

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে হরিজন কলোনির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন চাঁদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল আলম সূর্য।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে চাঁদপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হরিজন কলোনির পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন চাঁদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল আলম সূর্য।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে তিনি হরিজন কলোনির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পূজারীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং উৎসবের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন রুবেন, ৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কামাল, সদস্যসচিব নুর মোহাম্মদ, ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আমিন গাজীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

পরিদর্শন শেষে শামসুল আলম সূর্য বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। বাংলাদেশ আমাদের সবার, এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে পালনের অধিকার রয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব যেন আনন্দ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হয়, সে জন্য আমরা সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করছি। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্প্রীতি ও সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তার বার্তাকে সামনে রেখে আমরা জনগণের পাশে থাকতে চাই। চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইয়ের নির্দেশনায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতায় তৎপর রয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা।

এ সময় শামসুল আলম সূর্য পূজামণ্ডপের আয়োজক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মতলব দক্ষিণ উপজেলার এক মা ও তার ছেলে। ধর্ম পরিবর্তনের পর ইসলামি নাম ধারণ করে তারা জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সম্প্রতি খায়রুন নাহার নামের ওই নারী তার নতুন ধর্মান্তরিত ছেলেকে নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করাতে আসেন। এ সময় তাদের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন মাসুদ বেপারী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

জানা গেছে, ইসলাম গ্রহণের আগে ওই নারীর নাম ছিলো সুমি সরকার এবং তার ছেলের নাম ছিলো রবিন সরকার। ধর্মান্তরের পর এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে মায়ের নাম রাখা হয়েছে খায়রুন নাহার এবং ছেলের নাম আব্দুল্লাহ। খায়রুন নাহার জানান, আগে তারা পরিবারের সঙ্গে ঢাকার ডেমরা এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের স্থায়ী ঠিকানা মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। বর্তমানে স্বামী থেকে আলাদা হয়ে তিনি সন্তানকে নিয়ে চাঁদপুরে বসবাস করছেন।

নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে খায়রুন নাহার বলেন, “ইসলামের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও পবিত্রতার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই আমি স্বেচ্ছায় এই ধর্ম গ্রহণ করেছি। আমার ছেলেও নিজের ইচ্ছায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছে।” নতুন পরিচয়ে সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে নতুন জীবন শুরু করা এই মা-ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সমাজসেবী মাসুদ বেপারী। তিনি আব্দুল্লাহর চিকিৎসার খরচ বহনসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহকে আমি নিজের ভাইয়ের মতো এবং খায়রুন নাহারকে মায়ের মতো সম্মান করি। বিপদের দিনে তাদের পাশে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।”

Model Hospital

ধর্মান্তরের পর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, আবাসন ও আর্থিক অসচ্ছলতাজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এই মা-ছেলে। একটি নতুন ও অনিশ্চিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।