রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ইকরা মডেল একাডেমির শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ইকরা মডেল একাডেমির শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

চাঁদপুর শহরের স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ ইকরা মডেল একাডেমির কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জেলা পর্যায়ে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে অভূতপূর্ণ সাফল্য অর্জন করায় বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের এই সংবর্ধনা জানানো হয়। এরমধ্যে ক্লীন চাঁদপুর আয়োজিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ৯ জন শিক্ষার্থী বিজয়ী হয়।

এছাড়াও জুলাই বিপ্লব উপলক্ষে জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা এবং জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুরস্কারপ্রাপ্ত হন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর মডেল থানার ওসি’র প্রতিনিধি সাব ইন্সপেক্টর মোঃ আব্দুর রশিদ। তিনি শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে মাদক, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং বিষয়ে সতর্কতা ও পরামর্শমূলক বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও তিনি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা, ডেঙ্গু জ্বরসহ অন্যান্য মারাত্মক অসুস্থতা সম্পর্কে পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইকরা মডেল একাডেমির পরিচালনা কমিটির সভাপতি লায়ন গোলাম হোসেন টিটো। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফৌজিয়া আক্তারের দিকনির্দেশনায় এবং প্রাথমিক শাখার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মৌকারা কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মোঃ আব্দুর রহমান।

Model Hospital

এর আগে সমস্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। সবশেষে ২০২৬ সালের ২য় প্রান্তিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফল ঘোষণার সাথে সাথেই তা সকল অভিভাবকের মোবাইল ফোনে খুদেবার্তার মাধ্যমে ফলাফলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ পৌঁছে যায় এবং শিক্ষার্থীদের হাতে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় সম্পাদন করা ট্রান্সক্রিপ তুলে দেওয়া হয়।

চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মতলব দক্ষিণ উপজেলার এক মা ও তার ছেলে। ধর্ম পরিবর্তনের পর ইসলামি নাম ধারণ করে তারা জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সম্প্রতি খায়রুন নাহার নামের ওই নারী তার নতুন ধর্মান্তরিত ছেলেকে নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করাতে আসেন। এ সময় তাদের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন মাসুদ বেপারী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

জানা গেছে, ইসলাম গ্রহণের আগে ওই নারীর নাম ছিলো সুমি সরকার এবং তার ছেলের নাম ছিলো রবিন সরকার। ধর্মান্তরের পর এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে মায়ের নাম রাখা হয়েছে খায়রুন নাহার এবং ছেলের নাম আব্দুল্লাহ। খায়রুন নাহার জানান, আগে তারা পরিবারের সঙ্গে ঢাকার ডেমরা এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের স্থায়ী ঠিকানা মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। বর্তমানে স্বামী থেকে আলাদা হয়ে তিনি সন্তানকে নিয়ে চাঁদপুরে বসবাস করছেন।

নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে খায়রুন নাহার বলেন, “ইসলামের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও পবিত্রতার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই আমি স্বেচ্ছায় এই ধর্ম গ্রহণ করেছি। আমার ছেলেও নিজের ইচ্ছায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছে।” নতুন পরিচয়ে সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে নতুন জীবন শুরু করা এই মা-ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সমাজসেবী মাসুদ বেপারী। তিনি আব্দুল্লাহর চিকিৎসার খরচ বহনসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহকে আমি নিজের ভাইয়ের মতো এবং খায়রুন নাহারকে মায়ের মতো সম্মান করি। বিপদের দিনে তাদের পাশে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।”

Model Hospital

ধর্মান্তরের পর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, আবাসন ও আর্থিক অসচ্ছলতাজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এই মা-ছেলে। একটি নতুন ও অনিশ্চিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।