বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

 তৃনমূল থেকে উঠে আসা আলী এরশ্বাদ মিয়াজীকেই সভাপতি হিসেবে দেখতে চায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২২, ১২:২৪ পিএম
 তৃনমূল থেকে উঠে আসা আলী এরশ্বাদ মিয়াজীকেই সভাপতি হিসেবে দেখতে চায়

নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রায় ১৯ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। আর এই সম্মেলনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা উৎসাহ, উদ্দীপনা। সম্মলনকে সামনে রেখে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী হয়েছেন অনেক নেতারা। তার মধ্যে অন্যতম সভাপতি প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন, তৃণমূল ও ছাত্র জীবন  থেকে  উঠে আসা কর্মীবান্ধব নেতা চাঁদপুর সদর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির (বিআরডিবি) চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী এরশ্বাদ মিয়াজী।

এবারের ত্রি-বার্ষিক সম্মলনে তাকেই চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দেখতে চান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন  আওয়ামী লীগের একাধিক নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, আলী এরশ্বাদ মিয়াজী দীর্ঘদিন ধরে সৎ ও নিষ্ঠার সাথে রাজনীতিতে দলীয় দায়িত্ব পালন করার কারনে এবারের সম্মলনে সভাপতি হিসেবে  তাকেই মন থেকে চান তারা। কারণ চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সাথে নিবিড় সম্পর্কের কারনে  তাদের  আন্তরিকতা এবং অনুরোধেই এবারের সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন আলী এরশাদ মিয়াজী। এই বিষয়ে সভাপতি প্রার্থী আলী এরশাদ মিয়াজীরও  একই প্রত্যাশা তৃণমূল নেতৃবৃন্দের কাছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তার সভাপতি হিসেবে প্রার্থিতা নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। ১৯৭২ সাল থেকে ৭৪ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ছিলাম। ১৯৭৫ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজেকে জড়িয়ে  তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মানিত সদস্য থেকে শুরু করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করি। ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর সদর থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।

Model Hospital

এরপর ২০০৫ সাল থেকে অধ্য অবধি সদর থানা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সদর উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের ১২৬ টি ওয়ার্ডের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে আমার নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সুখ-দুঃখের সাথে সবসময় নিজেকে জড়িয়ে রাখতাম। সেই সুবাদে এবারের সম্মেলনে চাঁদপুর সদর উপজেলার তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের আন্তরিকতা ও অনুরোধের কারণেই আমি সভাপতি পদপ্রার্থী হয়েছি। তাদের সাথে নিবিড় সম্পর্কের কারণে সকল রাজনীতিক কর্মসূচি পালনে আমাদের সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের কখনো বেগ পোহাতে হয়নি। তাই আমার বিশ্বাস তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশাকে মূল্যায়ন করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ আমাকে চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে মূল্যায়ন করবে।

রাজনৈতিক পরিচিতি –
১) ২০০৫ইং হতে চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব
পালন ।
২) সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ (১৯৯২-২০০৫)।
৩) সাবেক আহ্বায়ক, চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন ৭নং তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন
প্রস্তুতি কমিটি।
৪) সাবেক সম্মানিত সদস্য, চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন ৭নং তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। ।
৫) ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ইং পর্যন্ত চাঁদপুর সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ।

রাজনৈতিক ভূমিকা :
১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ইং সনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা।
‘৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ঘোষিত সকল কর্মসূচিতে চাঁদপুর
জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশক্রমে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ।
১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রহসনের নির্বাচন প্রতিহত করার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন।
২০০৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য কেন্দ্রঘোষিত সকল কর্মসূচিতে চাঁদপুর জেলা
আওয়ামী লীগের নির্দেশক্রমে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ।
চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন সকল ইউপি নির্বাচন, পৌর নির্বাচন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনগুলোতে
যথাযথ দায়িত্ব পালন।
২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ সালের বিএনপি-জামায়াত জোটের নাশকতা, অগ্নিসন্ত্রাস প্রতিরোধে ওয়ার্ড
ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতাকর্মীদেরকে উদ্বুদ্ধ করে জোরালো ভূমিকা রাখেন এবং এক পর্যায়ে নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে জনসচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করেন।

তার সামাজিক অবস্থান :
চেয়ারম্যান, চাঁদপুর সদর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিঃ।
সম্পাদক, চাঁদপুর সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক লিমিটেড।
সাবেক সভাপতি, চাঁদপুর জেলা সমবায় ইউনিয়ন।
সাবেক পরিচালক ও সহ সভাপতি, চাঁদপুর সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ ৷
সাবেক সভাপতি, ৬২নং গুনরাজদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁদপুর ।
সাবেক সভাপতি, দক্ষিণ বিষ্ণুদী মোহাম্মদিয়া জামে মসজিদ, চাঁদপুর।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

চাঁদপুরের মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করায় তাকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ওই শিক্ষকের নাম মোঃ জুয়েল তালুকদার। তার বাড়ী হাজীগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দসার গ্রামে। তার পিতার নাম আলী আজম। মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। এক বছর আগে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি।

জানা গেছে, শিক্ষক জুয়েল তালুকদার তার নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যাঙ্গ করে এবং কুরুচিপূর্ণ ও সমালোচনামুলক একাধিক পোস্ট করেন ওই শিক্ষক। বিগত কয়েক মাস যাবৎ ‘জুয়েল তালুকদার ‘ নামের ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছাড়াও বিএনপির সাবেক মহাসচিব বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি দিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নজরে আসলে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃস্টি হয় এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।

তাৎক্ষণিক মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কেএম ইশমাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক জুয়েল তালুকদারকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Model Hospital

মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান বলেন, ‘ওই শিক্ষক সরকারের সুবিধা ভোগ করে তার ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা করে আসছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।’

মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি শোয়েব আহমেদ সরকার বলেন,‘ওই শিক্ষক মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অন্তরালে সরকারের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান তিনি।’

ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে জুয়েল তালুকদার বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি পরবর্তীতে ডিলিট করে দিয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি কেএম ইশমাম বলেন, ‘শিক্ষককে বাধ্যতামুলক ছুটির পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ কার্যদিসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।’