ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিচারিক ক্ষমতা হারালেন বগুড়ার সেই বিচারক, আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক : বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

Model Hospital

এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক শিক্ষার্থী পর্যায়ক্রমে শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে থাকেন। গত সোমবার এক শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষ ঝাড়ু দেয়ার কথা থাকলেও নিজেকে বিচারকের মেয়ে পরিচয় দিয়ে সে ঝাড়ু দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে অপর সহপাঠীদের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ঘটনার পর ওই মেয়ে আমাদের নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করে পোস্ট দেয়। নিজে বিচারকের মেয়ে বলে সে ঝাড়ু দিতে পারবে না, আর আমরা নাকি বস্তির মেয়ে। এই ধরনের কথা সহপাঠীদের কী করে বলা যায়? ওই পোস্টের বিপরীতে পাল্টা উত্তর দেয় তার চার সহপাঠী। পরে বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুনের মাধ্যমে ওই চার শিক্ষার্থীর অভিভাবককে বিদ্যালয়ে ডেকে পাঠান।

অভিভাবকরা জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের ডেকে বিদ্যালয়ে আনেন। পরে প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে চার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে জেলে পাঠানোর হুমকি দেন বিচারক। এ সময় বিচারক অভিভাবকদের পা ধরে ক্ষমা চাইতেও বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

তবে প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুনের দাবি, ‘দুই অভিভাবক নিজে থেকে পা ধরে ক্ষমা চান। তাদের কেউ বাধ্য করেননি।’

পরে প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে অভিভাবকদের ডেকে পা ধরানোর ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। তারা ক্লাস-পরীক্ষা বাদ দিয়ে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধনসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। জেলা প্রশাসকের অনুরোধে ও বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষার্থীরা।

ট্যাগস :

বিচারিক ক্ষমতা হারালেন বগুড়ার সেই বিচারক, আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত

আপডেট সময় : ১২:৪৩:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০২৩

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক : বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

Model Hospital

এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক শিক্ষার্থী পর্যায়ক্রমে শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে থাকেন। গত সোমবার এক শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষ ঝাড়ু দেয়ার কথা থাকলেও নিজেকে বিচারকের মেয়ে পরিচয় দিয়ে সে ঝাড়ু দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে অপর সহপাঠীদের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ঘটনার পর ওই মেয়ে আমাদের নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করে পোস্ট দেয়। নিজে বিচারকের মেয়ে বলে সে ঝাড়ু দিতে পারবে না, আর আমরা নাকি বস্তির মেয়ে। এই ধরনের কথা সহপাঠীদের কী করে বলা যায়? ওই পোস্টের বিপরীতে পাল্টা উত্তর দেয় তার চার সহপাঠী। পরে বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুনের মাধ্যমে ওই চার শিক্ষার্থীর অভিভাবককে বিদ্যালয়ে ডেকে পাঠান।

অভিভাবকরা জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের ডেকে বিদ্যালয়ে আনেন। পরে প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে চার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে জেলে পাঠানোর হুমকি দেন বিচারক। এ সময় বিচারক অভিভাবকদের পা ধরে ক্ষমা চাইতেও বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

তবে প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুনের দাবি, ‘দুই অভিভাবক নিজে থেকে পা ধরে ক্ষমা চান। তাদের কেউ বাধ্য করেননি।’

পরে প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে অভিভাবকদের ডেকে পা ধরানোর ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। তারা ক্লাস-পরীক্ষা বাদ দিয়ে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধনসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। জেলা প্রশাসকের অনুরোধে ও বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষার্থীরা।