শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্ত:নগর মেঘনা এক্সপ্রেস হাসানপুরে দুর্ঘটনায় পড়ায়

পৌনে ৫ ঘন্টা বিলম্বে গন্তব্যে, শত-শত শিশু ও মহিলা যাত্রী গরমে দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৩, ২:৪৮ পিএম
পৌনে ৫ ঘন্টা বিলম্বে গন্তব্যে, শত-শত শিশু ও মহিলা যাত্রী গরমে দুর্ভোগ

চাঁদপুর-চট্রগ্রামের মধ্যে প্রতিদিন চলাচলকারী আন্ত:নগর মেঘনা এক্রপ্রেস পৌনে ৫ ঘন্টা বিলম্বে রাত ২টা ১৭ মিনিটে চাঁদপুর গন্তব্যেস্থাানে পৌছায়।

এতে করে এ ট্রেনে থাকা শত-শত দক্ষিনাঞ্চলীয় ট্রেনের যাত্রীরা প্রচন্ড গরমের মধ্যে রমজানের রোজার মধ্যে রোজা রেখে মারাত্বক ভাবে দুর্ভোগ পৌহাতে হয়েছে।

এ সব যাত্রীরা এখন চাঁদপুর এসে নৌ-টার্মিনালে বসে দক্ষীনাঞ্চলীয় লঞ্চের অপেক্ষায় টার্মিনালে বসে থেকে অপেক্ষার প্রহর গুনছে।

ঘটনার পর পর যে সকল যাত্রীর নিকট অর্থ ছিল তারা বাস বা অন্যকোন উপায়ে লাকসাম হয়ে চাঁদপুরসহ বিভিন্নস্থাানে ও দক্ষিনাঞ্চলে গন্তব্যে চলে যায় বলে যাত্রীরা জানান। যাদের অর্থ সীমিত ছিল তারা এ পৌনে ৫ঘন্টা পরিবার পরিজন নিয়ে মারাত্বক দূর্ভোগ পৌহাতে হয়েছে।

Model Hospital

 এ ঘটনাটি ঘটেছে,রোববার(১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় কুমিল্লা-চট্রগ্রাম রেলপথের লাকসামের অদূরে হাসানপুর নামক রেলস্টেশন ইয়ার্ডের ভিতরে।

এ পৌনে ৫ঘন্টা ট্রেনের মধ্যে থাকা শত-শত যাত্রী আটকা পড়ে দূর্ভোগ পৌহায়। তারা গন্তব্যে পৌছার জন্য ও জীবন বাচাঁতে পানি ও খাদ্য সংকটের মধ্যে মারাত্বক ভাবে কষ্ট শিকার করতে হয়েছে। এ সময় শত-শত শিশু ও মহিলা যাত্রীরা সবচেয়ে বেশী দূর্ভোগ পৌহাতে হয়েছে।

যাত্রীরা মারাত্বক দুর্ভোগে পড়লেও যাত্রীদেরকে রেলওয়ের সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষ থেকে খাদ্য,পানিসহ কোন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়নি বলে অসংখ্য যাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগ উঠেছে।

চট্রগ্রাম রেলওয়ের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে,চট্রগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে রোববার(১৬এপ্রিল) বিকেল ৫টায় আন্ত:নগর সোনার বাংলা এক্রপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার উদের্শে চট্রগ্রাম ত্যাগ করে। পথিমধ্যে কুমিল্লার হাসানপুর নামকস্থান দিয়ে যাওয়ার সময় হাসানপুর স্টেশনে দাড়িয়ে থাকা মালবাহী একটি ট্রেনের উপর উঠে যায়। এতে ঘটনা¯’লে বড় ধরনের মারাত্বক দূর্ঘটনা ঘটে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

ট্রগ্রাম রেলওয়ের একটি সূত্রে জানা যায়, রোববার চট্রগ্রাম থেকে বিকেল সোয়া ৫টায় চাঁদপুর অভিমূখি আন্ত:নগর মেঘনা এক্রপ্রেস ৭২৯ নাম্বার ডাউন ট্রেনটি সহস্রাধিক যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসে। এ ট্রেনটি রাত সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর এসে পৌছার কথা। পথিমধ্যে হাসানপুর দূর্ঘটনার কারনে মেঘনা এক্রপ্রেস বিভিন্নস্থানে অবস্থা নেওয়ায় বিলম্ব হতে থাকে। পরে মেঘনা এক্রপ্রেস হাসানপুর নামকস্থান এসে দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা আটকা পড়ে থাকে।

সেখানে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে ছেড়ে আসা কয়েকটি ট্রেনও আটকা পড়ে। এতে করে  আন্ত:নগর মেঘনা এক্সপ্রেসে আটকা পড়া ট্রেনের ভিতরে অবস্থান নেওয়া শতশত বিভিন্নস্থানের যাত্রীরা মারাত্বক দূর্ভোগে পড়ে  কষ্ট শিকার করে পৌনে ৫ঘন্টা বিলম্বে চাঁদপুরে এসে পৌছে রাত ২টা ১৭ মিনিটে।

 এ ঘটনায় কারনে চাঁদপুর থেকে লঞ্চযোগে দক্ষিনাঞ্চলের উদের্শে যাওয়া যাত্রীরা ট্রেনে আটকা পড়ে থেকে মারাত্বক দূর্ভোগ পৌহাতে হয়েছে। দক্ষীনাঞ্চলীয় যাত্রীরা আন্ত:নগর মেঘনা এক্রপ্রেস ট্রেনের বিলম্বের কারনে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চ গুলো রোববার রাত ১০ থেকে ১১ পর্যন্ত চাঁদপুরে নৌ-টার্মিনালে থেকে গন্তব্যের উর্দ্দেশে চলে যায়। বিলম্বে আসা ট্রেনের কারনে দক্ষীনাঞ্চলীয় যাত্রীরা লঞ্চ না’পেয়ে চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালে সোমবার(১৭এপ্রিল) দিনভর অবস্থান নিয়ে মারাত্বক দূর্ভোগ পৌহাতে দেখা যায়। আজ সোমবার রাতে ঢাকা থেকে লঞ্চ চাঁদপুর আসলে দক্ষিনাঞ্চলীয় যাত্রীরা সে সব লঞ্চে করে তাদের গন্তব্যে মঙ্গলবার গিয়ে পৌছবে।

এদিকে,আন্ত:নগর মেঘনা এক্রপ্রেস ট্রেনের বিলম্বের কারনে ট্রেন চাঁদপুর আসার পর স্থানীয় স্টেশন এলাকার ওয়াস ফিটে দায়িত্বরতরা ট্রেনের ভিতরে ওয়াস করেনি। ওয়াস না করায় আজ সোমবার অপরিস্কার ও দূরগর্ন্ধ অবস্থায় মেঘনা ট্রেনটি চাঁদপুর থেকে চট্রগ্রামের উর্দ্দেশে যাত্রা করে বলে অসংখ্য যাত্রীরা জানান। তারা এ সময় নোংরা পরিস্থিতির কারনে চাঁদপুরের স্টেশন মাস্টার শোহেবুর রহমান শিকদারের নিকট অভিযোগ জানিয়েছেন বলে যাত্রীরা জানান।

 এ বিষয়ে চট্রগ্রাম থেকে পৌনে ৫ঘন্টা বিলম্বে আসা একজন যাত্রী মো: ফাহিম হোসেন ৮ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী জানান,চট্রগ্রাম থেকে মেঘনা ট্রেনটি ছেড়ে আসার প্রায় ১ ঘন্টা পর থেকে বিভিস্থানে থামিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় জানা যায়,সোনার বাংলাএকপ্রেস ট্রেনটি দূর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

পরে ধীর গতিতে চলতে চলতে মেঘনা একপ্রেস ট্রেনটি দূর্ঘটনা ঘটাস্থলে আসলে দেখতে পাই একটি ট্রেনের বগি উপর অন্য ট্রেনের বগির উপরে উঠে দূর্ঘটনা ঘটেছে। তবে তখন জানতে পারি সোনার বাংলা ট্রেনের সামনে যাত্রী কম ছিল। যাত্রী ছিল ট্রেনের পিছনের অংশে বেশী। যার ফলে বেশী যাত্রী আহত হয়নি। তা’না হলে অনেক যাত্রী আহত হতো ও মারা যেত। তিনি আরো বলেন,দূর্ঘটনাস্থলে সোনার বাংলা ট্রেন দূর্ঘটনার শিকার হয়ে ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি ছুটে গিয়ে পার্শ্ববর্তী  খেতে পড়ে যায়। মেঘনা ট্রেনটি ৫ঘন্টা বিলম্বে চাঁদপুর আসে। তবে ট্রেনের যাত্রীরা পানি ও খাদ্য না পেয়ে অনেক বেশী দূর্ভোগে পড়ে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’