রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

স্বামী, শ্বশুর শাশুড়িসহ ৫জনকে আসামী করে অভিযোগ

হাইমচরে অঃন্তসত্বা গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি প্রকাশিত: রবিবার, ২১ মে, ২০২৩, ১২:০৮ এম
হাইমচরে অঃন্তসত্বা গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
হাইমচরে মাকসুদা আক্তার লিজা (১৯) নামের ৭ মাসের অন্তঃসত্বা এক গৃহবধূর গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে হাইমচর থানা পুলিশ।
শনিবার রাত ৩ টায় আলগী দক্ষিন ইউনিয়নের গন্ডামারা গ্রামের তার স্বামী ফারভেজ রাঢ়ীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে জানান গৃহবধূর স্বামীর বাড়ির লোকজন।
খবর পেয়ে সকাল ৭টায় হাইমচর থানা পুলিশ গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরন করেন।
গৃহবধূ মাকসুদার বাবা মোসলেম ছৈয়াল বাদী হয়ে স্বামী ফারভেজ রাঢ়ী, শশুর ফারুক রাঢ়ী, শশুড়ি ফাতেমা বেগম, ননদ ফারজানা বেগমসহ ৫জনকে আসামী করে হাইমচর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
সরজমিনে গিয়ে জানাজায়, গত দেড় বছর পূর্বে হাইমচর উপজেলার গন্ডামারা এলাকার ফারুক রাঢ়ীর ছেলে ফারভেজ এর সাথে রায়পুর উপজেলার চরআবাবিল এলাকার মোরশেদ ছৈয়ালের একমাত্র মেয়ে মাকসুদা আক্তার লিজাকে ইসলামি শরীয়া মোতাবেক বিবাহ দেয়া হয়। বিবাহের কিছুদিন পর জানতে পারা যায় স্বামী ফারভেজ মাদকাসক্ত। সে নেসায় আসক্ত হইয়া প্রায় সময় গৃহবধূ মাকসুদার উপর নির্যাতন করতো।
বিষয়টি ফারভেজের বাবা, মা, ননদ, ননদের স্বামীকে জানালে তারা ফারভেজকে কোন রকম শাষন না করে উল্টো মাকসুদাকে গালমন্দ করতে থাকে। গৃহবধূর পিতা মেয়েকে স্বামীর অত্যাচার থেকে বাঁচাতে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। সেখান থেকে ১৫ দিন আগে স্বামী ফারভেজ মেয়ে মাকসুদাকে জোর করে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাড়িতে নিয়ে আসার পর মাকসুদার উপর আরও বেশি নির্যাতন চালায় এ পাষান্ড স্বামী। সর্বশেষ গত ১৯ মে সন্ধ্যায় স্বামী, শশুর, শাশুড়ি, ননদ ও ননদ জামাইসহ বাড়ির লোকজন গৃহবধূ মাকসুদাকে মারধোর করে। তাকে আত্মহত্যা করার জন্য পরোচনা দেয়।
ঐদিন রাতেই গৃহবধূ মাকসুদা কস্ট সহ্য না করতে পেরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে (ফাঁস) দিয়ে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করে। পরে স্থানীয় লোকজন হাইমচর থানা পুলিশকে জানালে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসে ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরন করেন। ময়নাতদন্ত শেষে গৃহবধূ মাকসুদা আক্তার লিজাকে তার বাপের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাপন করা হয়।
গৃহবধূ মাকসুদার পিতা মোসলেম ছৈয়াল জানান, আমার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর থেকে তার স্বামীর বাড়ির লোকজন বিভিন্ন  ভাবে অত্যাচার করতো। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মেয়ে আমার বাড়িতে চলে আসছিল। আমার মেয়ের গর্ভে ৭ মাসের সন্তান ছিল। মেয়েটাকে মেরে পেলার জন্যই আমার বাড়ি থেকে জোর করে তাদের বাড়িতে নিয়ে গেছে। তারা মেয়েটাকে বাঁচতে দিল না।
মেয়েটাকে মেরেই পেললো। আমি তাদের বিচার চাই। আমি ন্যায় বিচারের লক্ষ্যে থানায় তাদেরকে আসামী করে একটি অভিযোগ দিয়েছি। আমি তাদের শাস্তি দেখে যেতে চাই।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।