শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সমগ্র দেশের ন্যায় কচুয়ায় উন্নয়ন হয়েছে : ড. সেলিম মাহমুদ

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: শনিবার, ৮ জুলাই, ২০২৩, ১১:০৮ পিএম
সমগ্র দেশের ন্যায় কচুয়ায় উন্নয়ন হয়েছে : ড. সেলিম মাহমুদ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা বিয়ষক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ক্রান্তিকাল ও সংকটের সময় শেষ আশ্রায়স্থল। এই সরকারের আমলে দেশে সর্বক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়ন হয়েছে। তিনি ৪২ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য একজন নির্ভিক নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে কালজয়ী রাষ্ট্র নায়ক থেকে বিশ্বনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। দেশের উন্নয়ন দেখে বিএনপি জামায়ত জোট নির্বাচন নিয়ে গভীর যড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

সমগ্র দেশের ন্যায় কচুয়ায় উন্নয়ন হয়েছে। রাজনীতির মাধ্যমে মানুষকে সেবা করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তা আমি প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। বিএনপিতে ও ভালো মানুষ আছে। তারাও দেশের উন্নয়ন দেখে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিবে।

তিনি আরো বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে রাষ্ট্রকে টেকসই ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে। এ পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারনে বাংলাদেশ যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে তা মোকাবেলা করে দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশে রূপান্তর করা। যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে কচুয়ার রাজনীতি বা মানুষকে কুলশিত করতে চায়, তারা ইতিহাসের আস্থাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। আমাদের আস্থা ও বিশ^াসের শেষ আস্থার স্থল শেখ হাসিনা।

তিনি ৮ জুলাই শনিবার উপজেলার কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের জলা তেতৈয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগের আয়োজনে মতবিনিময় উপরোক্ত কথা গুলো বলেন।

Model Hospital

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান এম. আখতার হোসাইনের সভাপতিত্বে ও ছাত্রলীগ নেতা জাহিদ হাসানের সঞ্চালনায় মতিবিনময় সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান হাতেম, আশ্রাফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান হাবিব মজুমদার জয়, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি লোকমান হোসেন, প্রচার সম্পাদক আমির হোসেন,কচুয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক রাকিবুল হাসান প্রমূখ।

একই দিন বিকেলে বিতারা ইউনিয়নের পূর্ব বিতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ড. সেলিম মাহমুদ।
ইউপি চেয়ারম্যান ইসহাক সিকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আইয়ুব আলী পাটওয়ারী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলম, ইতালীর নেপোলি শাখা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম শফিক, ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন, হাবিব মজুমদার জয়, আলী আক্কাস মোল্লা, উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক সালাউদ্দীন সরকার প্রমূখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’