শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

পঞ্চমবারের মতো ডিভোর্স

স্ত্রী চলে যাওয়ায় ২০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৮:১৩ পিএম
স্ত্রী চলে যাওয়ায় ২০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল

একযুগ আগে পারিবারিকভাবে আকতারুল ঢালীর (৪০) সঙ্গে বিয়ে হয় ওমেনুর বেগমের। বিয়ের পর থেকেই পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। তাই ২১ ডিসেম্বর ওমেনুর বেগম পঞ্চমবারের মতো ডিভোর্স লেটার পাঠালে তাতে সাক্ষর করেন স্বামী আকতারুল।

এরপর দীর্ঘ বৈবাহিক জীবনের বিচ্ছেদ ঘটায় ২০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করেছেন আকতারুল ঢালী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) বাগেরহাটের উজলকুর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ২০১২ সালে উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের প্রসাদনগর গ্রামের ইস্রাফিল ইজারাদারের মেয়ে ওমেনুর বেগমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন আকতারুল ঢালী। এই দম্পত্তির আখি মনি (১১) ও আরিফুল ঢালী (৬) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে তাদের সংসারে নানান বিষয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মতপার্থক্য চলতে থাকে। প্রায় এক যুগের পথচলায় এর আগে স্ত্রীর কাছ থেকে চারবার ডিভোর্স লেটার পেয়েছেন তিনি। তবে এর আগে ডিভোর্স লেটারে সাক্ষর না করলেও পঞ্চমবার ডিভোর্স লেটারে স্বাক্ষর করে দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটান।

Model Hospital

আকতারুল ঢালীর দাদি হামীদা বেগম বলেন, তিনি কয়েকবার ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছেন। আমরা কয়েকবার তাকে ফিরিয়ে এনেছি। এবার শুনলাম ধনী কাউকে নাকি বিয়ে করেছেন।

এ বিষয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে আকতারুল ঢালীর মা আমেনা বেগম বলেন, ছেলের বউকে কখনও অন্যের মেয়ের মত দেখিনি। সব সময় নিজের মেয়ের চোখে দেখেছি। বারবার চলে যাওয়ার পরেও ছেলের বউকে ঘরে ফিরিয়ে এনেছি। আমার ছেলে এবার ডিভোর্স লেটারে সাক্ষর করে দুধ দিয়ে গোসল করেছে।

এ বিষয়ে আকতারুল বলেন, যদিও বিষয়টি কষ্টের তবুও আমি আনন্দিত। আমি ২০১২ সালে বিয়ের পর থেকে আমার স্ত্রীর সঙ্গে সংসারে নানান ঝামেলায় জর্জরিত। আমার স্ত্রী সংসার করবে না বলে অনেকবার ছেড়ে চলে যায়।

আকতারুল ঢালী আরও বলেন, আমার স্ত্রী আমাকে এর আগেও চার বার ডিভোর্সের কাগজ পাঠিয়েছে। আমার দুটি সন্তানের দিকে তাকিয়ে আমি কোনোদিন সেই কাগজে স্বাক্ষর করিনি। আমি তাকে অনেকবার বুঝিয়ে সংসারে ফিরিয়ে এনেছি। কিন্তু সে কখনও আমার সংসারে সুখী ছিল না বলে দাবি করে। আমি অনেক নির্যাতন সহ্য করেও সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এবার সে আমাকে পঞ্চম বারের মতো ডিভোর্সের কাগজ বাড়িতে পাঠায়। আমি আর তার এ নির্যাতন সহ্য করতে রাজি না। তাই আমি তার পাঠানো ডিভোর্সের কাগজে স্বাক্ষর করে দিয়েছি। আমি চাই আমার সাবেক স্ত্রী সুখে থাকুক।

উজলকুড় ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ল্ডের ইউপি সদস্য আ. শুকুর ফকির বলেন, আকতারুল ঢালীর বিষয়টা আমি অবগত। এর আগে কয়েকবার তাদের বিচার সালিশ করে মীমাংসা করেছি। কিন্তু এবার তার স্ত্রী বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে চলে গিয়ে তাকে ডিভোর্স লেটার দিয়েছে।

শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

চাঁদপুরের শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন বলেন, শতবর্ষ পূর্তি একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবের আয়োজন। এ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় ও সফল করতে এখন থেকেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ এবং আয়োজন বাস্তবায়নে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা জরুরি। তিনি সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও পরামর্শ দেন।আলোচনা শেষে বিভিন্ন ব্যাচ থেকে দুজন করে সাবেক শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের সুবিধাজনক সময়ে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

Model Hospital

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ঈমাম হোসেন বলেন, ‘শতবর্ষ পূর্তি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবের বিষয়। সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চাই।

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মরহুম সিদ্দিকুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের সব প্রয়াত ও  শিক্ষকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।যে কয়জন জীবিত শিক্ষক রয়েছে তাদের সম্মাননা দেওয়া বিষয়ে অভিমত তুলে ধরা হয়।

একই সঙ্গে শতবর্ষের এই প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার পেছনে যাঁরা ভূমি, অর্থ, শ্রম ও নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে অবদান রেখেছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বিশেষভাবে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বক্তব্য দেন। প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমান স্যার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও প্রিয় পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও আদর্শ শিক্ষক। আমরা তাঁর অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি চাই।

সভায় শতবর্ষ উদযাপন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬ আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় সাবেক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।