ইঞ্জিঃ ইমতিয়াজ সিদ্দিকী তোহা একজন সমাজসেবকের নিরলস পথচলা
ইঞ্জিঃ ইমতিয়াজ সিদ্দিকী তোহা জন্মগ্রহণ করেন বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী সমৃদ্ধ অঞ্চল ও পূর্ণভূমি শাহরাস্তি। তাঁর জন্ম এক শান্ত, ধর্মভীরু ও নীতিনিষ্ঠ পরিবারে, যেখানে মানুষকে ভালোবাসা, সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ শেখানো হতো ছোটবেলা থেকেই। তিনি ছিলেন পরিবারের আদরের সন্তান এবং ছোট থেকেই মানবিক গুণাবলির প্রকাশ ঘটিয়েছেন। বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সহপাঠীদের প্রতি তাঁর সহযোগিতা, শিক্ষকদের প্রতি সম্মান এবং সমাজের বিভিন্ন ছোটখাটো উদ্যোগে অংশগ্রহণ তাঁর নেতৃত্বের গুণাবলিকে প্রকাশ করতে শুরু করে।

ছাত্রজীবনে ইঞ্জিঃ ইমতিয়াজ সিদ্দিকী সবসময় মেধা ও মননের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং স্কুল ও কলেজে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। শিক্ষকরা তাঁকে একজন পরিশ্রমী, সৎ ও নিষ্ঠাবান শিক্ষার্থী হিসেবে মনে রাখতেন। এই সময় থেকেই তাঁর ভেতরে এক ধরনের দায়বদ্ধতা জন্ম নেয়—সমাজের জন্য কিছু করার, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, আর ভবিষ্যতে এমন একটি পথ গড়ার যা হবে মানুষের কল্যাণে উৎসর্গীকৃত।

শিক্ষা জীবনের পাশাপাশি গভীরভাবে অনুভব করতে থাকেন সমাজেে অসহায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ, আর্থিক সংকট, চিকিৎসাসেবা না পাওয়া ইত্যাদি। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে অনুপ্রাণিত করে একটি বৃহত্তর চিন্তার দিকে: “শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তুলতে হবে, যার মাধ্যমে সমাজ এবং মানুষ উপকৃত হবে।”


২০১৫ সালে ইঞ্জিঃ ইমতিয়াজ সিদ্দিকী তোহা প্রতিষ্ঠা করেন শাহরাস্তি ইউথ ফোরাম। । তিনি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। এই সংস্থার লক্ষ্য ছিল, শাহরাস্তির যেখানেই অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা থাকুক না কেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশে থাকা অসহায়, গরীব, দুস্থ মানুষদের সহায়তা করা।
এই সংগঠন গঠনের পেছনে তাঁর মূল বিশ্বাস ছিল—”একটি সংগঠনের শক্তি তখনই পূর্ণ হয়, যখন সেটি মানুষের চোখের পানি মুছতে পারে।” তিনি চাননি এটি হোক আরেকটি আনুষ্ঠানিক সংগঠন মাত্র। বরং এটি হয়ে উঠুক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জীবন্ত হাত।
শাহরাস্তি ইউথ ফোরাম শুরু থেকেই কিছু ব্যতিক্রমী এবং জরুরি মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। দেশে দুস্থ পরিবারদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, মেডিকেল সহায়তা, অসহায় পরিবারের দাফন কার্যক্রমে সহযোগিতা, অর্থনৈতিক অনুদান, শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদ উপহার,রক্তদান কর্মসূচি, এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা তহবিল—এই সবকিছুই তিনি ও তাঁর সংগঠনের সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়ন করে আসছেন।
বিশেষ করে করোনাকালে ফ্রি অক্সিজেন সেবা ও খাবার কিংবা ওষুধের জন্য হাহাকার করছিলেন সাধারণ মানুষ , তখন ইঞ্জিঃ ইমতিয়াজ সিদ্দিকী তোহা নিজের হাতে তা পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়া ও তীব্র গরমে কৃষকদের ধান কাটা,বাড়িতে পৌঁছে দেয়া ও মাঠে বিশুদ্ধ পানি, ওরস্যালাইন ও শরবত নিয়ে ছুটে গেছেন তিনি। এমনকি২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ত্রান ও জীবন রক্ষাকারী ঔষধ সামগ্রী বন্যার্ত্যদের পরিবারের মাঝে পৌঁছে দিয়ে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ে। সবাই তাঁকে জানেন এক নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক হিসেবে।
শুধু সমাজ সেবায় নয় পড়ালেখায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় (সিভিল) ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় বিশ্বিবদ্যালয় থেকে সমাজকর্মে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতকোত্তর ফলাফল অর্জন করেন। এছাড়াও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক্সিকিউটিভ মাস্টার ইন আইসিটি ডিগ্রি ও অর্জন করেন তিনি। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন থেকে ফুড প্রসেসিং কোর্সের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ সিস্টেম ( আইইএলটিএস) সমাপ্ত করেন। এমনকি জাতীয় যুব উন্নয়ন কতৃক পরিচালিত এনওয়াইটিসি থেকে তিনি হায়ার ডিপ্লোমা ডিগ্রি ও অর্জন করেন।
সাংবাদিকতা ও লেখনীর ক্ষেত্রে ও তাঁর রয়েছে ব্যাপক সফলতা। জাতীয় ও স্হানীয় গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় তাঁর কলাম ও ফিচার ছাপা হয়ে থাকে। তিনি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রতিনিধি ও স্হানীয় বিভিন্ন দৈনিকে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।তাঁর সম্পাদনায় সাহিত্য সাময়িকী স্বপ্নীল ও সুহৃদ কন্ঠ পাঠকের মন জয় করে। বর্তমানে তিনি শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম শাহরাস্তি উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শুধু শাহরাস্তি ইউথ ফোরাম নয় ইঞ্জিঃ ইমতিয়াজ সিদ্দিকী তোহার নেতৃত্বে বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের হাতেখড়ি। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন সুহৃদ সমাজ ও শাহরাস্তি প্রিমিয়ারলীগ।
একজন দক্ষ উদ্যোগ্তা ও সফল ব্যবসায়ি হিসেবে তাঁর রয়েছে ব্যাপক সুনাম। তিনি গড়ে তুলেছেন বিল্ডিং কন্সট্রাকশন খাতে আর্কিভিশন ইঞ্জিনিয়ার্স ও ডিজিটাল প্রিন্টিং ও পাবলিশিং স্মার্টেক্স ডিজিটাল। এছাড়াও কৃষিতে যুগোপযোগী উন্নয়নের লক্ষে গড়ে তুলেছেন এ্যাগ্রো প্রজেক্ট।
মানবাধিকার বিষয়ে তাঁর রয়েছে সজাগ দৃষ্টি। সমাজের অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায়ে সর্বদা তিনি অগ্রসরমান। বর্তমানে ইঞ্জিঃ ইমতিয়াজ সিদ্দিকী তোহা বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল শাহরাস্তি উপজেলা শাখার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
ইঞ্জিঃ ইমতিয়াজ সিদ্দিকী তোহার অন্যতম বড় গুণ হচ্ছে তাঁর সৎ, নিরহংকারী এবং নেতৃত্বগুণসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। তিনি বিশ্বাস করেন, নেতৃত্ব মানেই শুধু নির্দেশ দেওয়া নয়, বরং নিজে সামনে থেকে কাজ করে দেখানো। সমাজসেবাকে তিনি কখনোই “দানের বিষয়” হিসেবে দেখেন না। তাঁর দৃষ্টিতে, এটা দায়িত্ব, এটা কর্তব্য।
তাঁর সংগঠনের সদস্যরা জানান, তিনি কখনো কাউকে ছোট করেন না, সকলের মতামত গুরুত্ব দেন, প্রয়োজনে নিজেই একাধিক কাজ হাতে তুলে নেন। এসব গুণই তাঁকে একজন আদর্শ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তিনি অত্যন্ত পারিবারিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ। তিনি সবসময় তাঁর মা-বাবা ও পরিবারের আদর্শকে সম্মান করে চলেছেন।
নিজের অনুভূতিতে তিনি বলেন, “আমার মা,বাবা ও বোনরা হলেন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তাঁরা আমাকে শিখিয়েছেন কিভাবে মানুষকে ভালোবাসতে হয়, কিভাবে বিনিময় ছাড়াই মানুষের পাশে থাকতে হয়।”
তাঁর ইচ্ছা, মৃত্যুর পর যেন মানুষ তাঁকে মনে রাখে একজন সেবক হিসেবে, একজন প্রিয়ভাজন ভাই হিসেবে—যিনি চেয়েছিলেন মানুষের চোখের অশ্রু মুছিয়ে দিতে।
সবসময় তিনি বাংলাদেশের জন্য, মানুষের জন্য, সমাজের জন্য এক নিরলস যোদ্ধার মতো কাজ করে যাচ্ছেন । তিনি শুধু একজন সংগঠক নন, একজন মানবিক নেতা। তাঁর জীবনকাহিনী আমাদের শেখায়, ভালোবাসা, দয়া আর দায়িত্ববোধের মাধ্যমে একজন মানুষ কিভাবে সমাজের ভরসাস্থলে পরিণত হতে পারেন।
এই যুগে যখন অনেকেই শুধু নিজের নিয়ে ভাবেন, তখন তিনি প্রমাণ করেছেন—এখনো কিছু মানুষ আছেন যারা সত্যিই “মানুষ”। তিনি জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে এই বার্তাই ছড়িয়ে দিয়েছেন—”মানুষের জন্য বাঁচো, তবেই জীবন সার্থক।







