শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আহ্বান ইসলামী ঐক্যজোটের

তোমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে, এবার ঘরে ফিরে যাও

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৪ আগস্ট, ২০২৪, ১২:১৩ এম
তোমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে, এবার ঘরে ফিরে যাও

আন্দোলনরত ছাত্রদের ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানালেন বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী।

ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। এবার ঘরে ফিরে যাও। বাকি দাবিগুলো সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসে আদায় করার জন্য ছাত্রদের প্রতি অনুরোধ জানান।

প্রিয় মাতৃভূমির জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে ইসলামী ঐক্যজোট প্রস্তুত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান। এসময় জোটের মহাসচিব মাওলানা মনিরুজ্জামান রব্বানী, জোটের নেতা আমজাদ হোসেন খোকন, আসাদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

মাতৃভূমি রক্ষার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করার কথা বলেছেন, তা হলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কবে থেকে আপনারা মাঠে নামবেন? জবাবে মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে মাঠে নামবে ইসলামী ঐক্যজোট। তবে এই মুহূর্তে জোটের নেতারা রাজপথে নমতে রাজি নন। কেননা ছাত্রদের ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে রাজপথে লড়াই করবে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে। আশাকরি ছাত্ররা শিগগির ঘরে ফিরে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ছাত্রদের এই ন্যায্য আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে আসছিলো। অহিংস এই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য আমরা বারবার সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি। আমরা বলেছিলাম, ছাত্রদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করে তাদের দাবি বাস্তবায়ন না করলে ষড়যন্ত্রকারীরা কোমলমতি ছাত্রদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালাতে পারে। সরকারের সংস্থাগুলো বা সরকার এ কথাগুলো আমলে নেয়নি। জনসমর্থিত একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনকে সহিংস আন্দোলনে পরিণত করে সমস্ত আন্দোলনকে রক্তাক্ত করে দেওয়া হলো। দুই শতাধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করলো এবং আহত হলো কমপক্ষে আরও দুই হাজার। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ছাত্র, সাধারণ পথিক, পুলিশ ও শিশুসহ নানা পেশার মানুষ। এই মৃত্যুর দায় কার?

তিনি বলেন, এই ঘটনার দ্রুত বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করে, তদন্ত রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করে বিশেষ আদালত গঠন করে এদের বিচার করতে হবে।

জামায়াত ইসলামী নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমগ্র উপমহাদেশের আলেমরা এই দলটিকে একটি উগ্র ফিৎনাবাজ দর্শনে লালিত দল হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছিলেন। ইতিহাস সাক্ষী যে, উগ্রবাদী গোষ্ঠী হযরত আলী (রা.)-কে হত্যা করেছিল, তারা নিজেকে বিশুদ্ধ মুসলমান মনে করতো। তাদের স্লোগান ছিল আল্লাহর আইন চাই, সৎলোকের শাসক চাই। এই উগ্রবাদী খুলাফায়ে রাশিদীনকেও সৎ মনে করত না।

সরকার জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আন্তর্জঅতিক যুদ্ধপরাধ আদালত বহু পূর্বে জামায়াতে ইসলামীকে একটি অপরাধী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। আমি নিশ্চিতভাবে জানি, জামায়াত-শিবিরের চতুরতা সম্বন্ধে সরকারের কোনো ধারণা নেই। অথবা যারা এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর রাখার দায়িত্বে, তাদের সঙ্গে জামায়াতের অনেকে আর্থিক সংস্থার সঙ্গে জড়িত।

যে উলামারা এতদিন জামায়াতের পাপাচারিতা দেশবাসীকে অবগত করতেন, এখন তাদের সন্তানরা জামাতের অর্থসহ সহযোগিতা, ব্যবসা, আমদানি-রফতানির সুযোগ- সুবিধা পেয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বে বৃহৎ ইসলামী ঐক্যের আওয়াজ উঠিয়েছিলেন। জামায়াতের কথিত হেকমতের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। যদি জামায়াতের প্রকৃত রূপ দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট করা না যায়, তবে এই নিষিদ্ধ করা কোনো কাজে আসবে না। আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অঙ্গ সংগঠন ও প্রক্সি গ্রুপগুলোর ব্যাপারে সরকার কতটুকু জানে আমাদের জানা নাই।

তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করে সরকার বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েছে। এই মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। সরকারকে মনে রাখতে হবে, ১৪ দলের নেতার বাহিরে সরকারের পরিক্ষিত অনেক মিত্র ছিল। সরকার তাদের সঙ্গে কথা না রাখলেও তারা সরকারের বিপদমুহূর্তে পাশে থেকেছেন। বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট সব পরিস্থিতিতে সরকারের পাশে ছিলো। তবে দুর্নীতি ও মন্ত্রীদের অনেকের অতিরিক্ত কথা, এমপিদের জমিদারির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় সরকারের ভেতরের অনেকেই আমাদেরকে দূরে রাখতে চান। এতে আমরা দুঃখিত নই। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের দাবির সমর্থনে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি, একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সহানুভূতির সঙ্গে গ্রহণ করায় সরকারকে অভিনন্দন জানাই।

এসময় তিনি পাঁচ দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হচ্ছে-

১. ছাত্র আন্দোলনে নিহত প্রতিটি ঘটনার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দ্রুত ব্যবস্থা করতে হবে।

২. প্রকৃত শিক্ষার্থী যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদেরকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে, যাতে কোনো অবস্থায় এদের শিক্ষা বাধাগ্রস্ত না হয়। নিহতদের পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।

৪. যত দ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে।

৫. জামায়াত-শিবির ও তাদের প্রকাশ্য ও গোপন অঙ্গ সংগঠনগুলো যাতে দেশে আর কোনো নৈরাজ্যের সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সুযোগ সন্ধানীরা যেন কোনো সীমালঙ্ঘন বা মতবলবাজী করতে না পারে সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’