শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে সেভ দ্য ফিরোজপুর সামাজিক সংগঠনের আহবায়ক কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২২, ৬:৩৪ পিএম
হাজীগঞ্জে সেভ দ্য ফিরোজপুর সামাজিক সংগঠনের আহবায়ক কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিনিধি : ‘আমাদের ফিরোজপুর, আমরাই সাজাবো’ সুরক্ষিত থাকুক আগামী প্রজন্ম এই স্লোগানকে সামনে রেখে সেভ দ্য ফিরোজপুর সামাজিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সমাজের যেকোন দুর্যোগ মোকাবেলায় ও অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে থেকে ভাল কাজে সবার পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করবে সংগঠনটি।

তারই পরিপ্রেক্ষিতে সেভ দ্য ফিরোজপুর সামাজিক সংগঠনের কমিটি গঠন করার লক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফিরোজপুর বাজারস্থ প্রধান কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সেভ দ্য ফিউচার ফাউন্ডেশন চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম সিফাতের সভাপতিত্বে ও সেভ দ্য ফিরোজপুরের নব নির্বাচিত আহ্বায়ক আল আমিন মজুমদারের পরিচালনায় সম্মানীত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হাবীবুর রহমান পলাশ, এম আই কে তুষার মজুমদার, হেলাল উদ্দিন তালুকদার, ওমর ফারুক প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সেভ দ্য ফিউচার ফাউন্ডেশন চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম সিফাত বলেন, সামাজিক সংগঠন কেন করব, তার পিছনে প্রথম কারন হচ্ছে, তারুণ্য। আমরা আমাদের এ তরুণ সময়টা লেখাপড়া কিংবা চাকরির মধ্য দিয়েই চালাই। একটু খেয়াল করুন, লেখাপড়া কিন্তু দিনের ২৪ ঘন্টাই হয় না। লেখাপড়ার বাইরে আমরা অনেক সময় অবসরে কাটিয়ে দেই। আমরা চাইলে বিনোদনের মাধ্যমে সেই সময়কে তারুণ্যের শক্তিতে রূপান্তর করতে পারি। এসময়টা যদি আমরা সমাজের জন্য ব্যয় করি, তাহলে আমাদের ত কোন ক্ষতি হচ্ছে না। উল্টো লাভই হচ্ছে। কারন সমাজের উন্নয়ন মানে আমাদের উন্নয়ন। এ সমাজের সামান্য উন্নয়ন হলে, তা আমাদের কল্যাণেই আসবে। তাই আমাদের কল্যাণে তারুণ্যের অবসর সময়টা সমাজের তরে কাজ করতে পারি।

Model Hospital

তিনি আরো বলেন, বর্তমান তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে। এদেরকে রক্ষা করতে হবে। যখন আপনি এক বা একাধিক সামাজিক সংগঠনের আওতায় চলে আসবেন তখন আপনার একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। আপনি চাইলেও এসব অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। কারন আপনার প্ল্যাটফর্ম আপনাকে বাঁধা দিবে।

যখন একটি সংগঠনের ব্যানারে আপনি মাদক, ইভটিজিং, জঙ্গিবাদের বিপক্ষে কথা বলবেন, তখন অন্যত্র এই অপরাধের সাথে আপনি সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। কারন আপনার বিবেক আপনাকে বাধা দিবে। তাই এই প্ল্যাটফর্ম তৈরির জন্য আপনাকে সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে আসতেই হবে।

বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায় মানুষের সেবা করতে সামাজিক সংগঠন গুলো এগিয়ে আসতে হবে।

পরে সভায় ৩১ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।
সেভ দ্য ফিরোজপুর সামাজিক সংগঠনের আহবায়ক কমিটির নির্বাচিতরা হলেন, আহবায়ক আল আমিন মজুমদার, ১ম যুুগ্ন-আহবায়ক ফরহাদ প্রধানীয়া, সাজ্জাদ মজুমদার, বিল্লাল গাজী, মুনমুন, সদস্য সচিব রবিউল গাজী, সম্মানীত সদস্য- রিমন, মুজাহিদ, সাব্বির, হোসাইন, আরিফ, মেহেদী, ওসমান, হাছান, সাকিব, রোহান, রবিউল, সিফাত, শাওন, মেহেদী, হাছান, সজিব, জাবেদ, হাবিব, রিয়াজ, রিকাত, আরিফ, তাহমিদ প্রমূখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’