বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

আর্থিক বাণিজ্যের অভিযোগ

এমপিও ভুক্ত মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান!

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৭:৪০ পিএম
এমপিও ভুক্ত মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান!
হাইমচর উপজেলায় এমপিও ভুক্ত মাদ্রাসার জায়গার ভবনেই প্রাইভেট মাদ্রাসায় রুপান্তরীত করেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। সরকারী ভবনে প্রাইভেট মাদ্রাসা বানিয়ে আর্থিক বানিয্যের অভিযোগ উঠেছে ঐ মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাও: মো. শরীফ হোসেনের বিরুদ্ধে। কাটাখালী হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসার এ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে রয়েছে আরও নানান অভিযোগ।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা তীব্র ক্ষোভে পুরো এলাকা ফুসে উঠেছে। মাদ্রাসার জায়গা লিজ দিয়ে নিজেকে আড়ালে রেখে নিজেই পরিচালনা করছেন প্রাইভেট মাদ্রাসাটি। তথ্য জানতে চাইলে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ তার নিকটতম আত্মীয় সহকারী শিক্ষকসহ স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে অশুভ আচরন করেন।
স্থানীয় মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মুসলিম মিয়া, হাসান শেখ, আমির হামজা, আলমগীর তফাদার সহ আরো অনেকেই জানান, কাটাখালী হামিদীয়া মাদ্রাসা ১৯১৫ সালে স্থাপিত হওয়ার পর থেকে অনেক সুনামের সাথেই পরিচালিত হয়ে আসছিল। প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখতে উপজেলার বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্যক্তির দানের মাধ্যমে বর্তমানে তিনটি ক্যাম্পাসে রূপান্তরিত হয়।  (১) পশ্চিম চর কৃষ্ণপুর ক্যাম্পাস (২) নয়ানী ক্যাম্পাস (৩) মহজমপুর ক্যাম্পাস। সবগুলো ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা অর্ধনরত ছিলেন।
প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক (এবতেদায়ী, দাখিল, আলিম) পর্যায়ে ক্লাস চলমান ছিল তবে গোপনে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাঃ মোঃ শরিফ হোসেন মহজমপুর ক্যাম্পাস টিকে দারুস সুন্নাহও আইডিয়াল একাডেমি কাটাখালি হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসা প্রাইভেট শাখা নামে পরিচালিত করার জন্য ১০ বছরের চুক্তিপত্র করে লিজ দিয়েছেন। তাও আবার ফেরত যোগ্য ১ লাখ টাকার বিনিময়ে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কিমিটির নিজস্ব লোকদের নিয়ে রেজুলেশন করেন এবং অনুপস্থিত সদস্যদের সাইন নকল করে তিনি একটি রেজুলেশন করেন। মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির অসুস্থতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি এ মাদ্রাসার ভবনে আরেকটি প্রাইভেট মাদ্রাসা তৈরি করেন। এ সম্পর্কে কমিটির বেশিরভাগ সদস্যই জাননেন না।
এ ছাড়া তার দেয়া চুক্তিপত্রে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে মাদ্রাসার জমিন প্রাইভেট মাদ্রাসা ব্যবহার করতে পারবে চুক্তপত্রে থাকলেও গত ৪ মাস ধরেই চলছে ঐ প্রাইভেট মাদ্রাসার কার্যক্রম।
তারা আরও জানান, পূর্বে কয়েক বার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী  এই অধ্যক্ষকে অপসারণ করে মাদ্রাসার সকল ক্যাম্পাসকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান।
স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানান, এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরেই  অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। কয়েক মাস ধরেই সংবাদকর্মীরা তদন্ত শুরু করেন। অনুসন্ধানে দেখা যায় মহজমপুর ক্যাম্পাসটি সরকারি অনুমতি ছাড়াই ভাড়া দিয়ে কাটাখালী হামিদীয়া মাদ্রাসাটি প্রাইভেট শাখা নামে পরিচালিত করছেন।
অনুসন্ধানে জানাজায়, কাটাখালি মাদ্রাসার সহকারি অধ্যাপক হারুনুর রশিদের স্ত্রী ফারজানা আক্তারসহ স্থানীয় আরও ৩ জনের নামে জায়গার চুক্তিপত্র করেন। এ ছাড়াও আড়ালে থেকে কাটাখালি মাদ্রাসার বেশ কিছুু শক্ষক মিলেই এই প্রাইভেট মাদ্রাসা পরিচালনা করেন। চুক্তিপত্রে ফেরত যোগ্য ১ লাখ টাকা উল্লেখ করলেও সকলের আড়ালে মোটা অংকের টাকার লেনদেন করেছেন অধ্যক্ষ্য মাও. শরীফ হোসেন। যা তিনি এই প্রাইভেট মাদ্রাসার সেয়ার হিসেবে রেখেছেন এমন অভিযোগ রয়েছে।
অধ্যক্ষের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোন ধরনের সৎ উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচারন করেন। অধ্যক্ষের সম্মুখে সহকারী শিক্ষক আইসিটি  আবুল বাসারসহ শিক্ষকরা অশুভ আচারন করেন। ভিডিও ধারন করতে বাধা দিয়ে আপত্তিকর ভাষায় সাংবাদিকদের হেনস্থা করেন। অধ্যক্ষ জোর গলায় গণমাধ্যম কর্মীদের হুমকি দিয়ে বলেন আমার মাদ্রাসার জায়গায় আমি কি বানাবো না বানাবো একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। কারও বাপের ক্ষমতা নাই আমাকে কিছু করার।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাটাখালি হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. শরীফ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ফোন কল কেটে দেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা  কামাল বলেন, কাটাখালী হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসার পাইভেট শাখার বিষয়ে যে অভিযোগ এসেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ প্রাইভেট নামে কোন মাদ্রাসা চালানোর সুযোগ নেই। যেহেতু এটি এমপি ভুক্ত প্রতিষ্ঠান। আমরা খবর পেয়েছি প্রাইভেট মাদ্রাসা চলতেছে। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কে ডেকে বলেছি এমপি ভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। মাদ্রাসার নামে জমি খারিজ করা মাদ্রাসার নামে।  বেসরকারিক এবং প্রাইভেট কাউকে দেওয়ার সুযোগ নেই।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালমা নাজনীন তৃষা বলেন, আমার এই বিষয়টি জানা নেই, আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই করেছেন, নাকি আগেই করেছেন। নীতিমালা অনুযায়ী এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার নিয়ম নেই।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital